, ,

খুমেক হাসপাতালে আইসিইউ বেড বরাদ্দের নামে ১২ হাজার টাকার চুক্তি: সক্রিয় প্রতারক চক্র

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংকটাপন্ন রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) বেড পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি প্রতারক চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অসহায় রোগীদের স্বজনদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে আইসিইউ-তে একটি বেড পাইয়ে দেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ সামনে এসেছে, যা নিয়ে রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​যেভাবে কাজ করে প্রতারক চক্রটি:
​অনুসন্ধানে জানা যায়, খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের আশপাশে কিছু দালাল ও প্রতারক চক্রের সদস্য ওঁৎ পেতে থাকে। যখন কোনো রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং জরুরিভাবে আইসিইউ বেডের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন এই চক্রটি রোগীর অসহায় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে ‘বিশেষ সখ্যতা’ ও প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করে।
​সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুমূর্ষু এক রোগীর জন্য আইসিইউ বেড নিশ্চিত করার কথা বলে ১২ হাজার টাকার একটি চুক্তি করে চক্রের সদস্যরা। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এমন নির্মম ব্যবসার কারণে সরকারি হাসপাতালের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
​নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবার সুযোগে বাণিজ্যের থাবা:
​খুমেক হাসপাতালে আইসিইউ বা জরুরি চিকিৎসাসেবা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও, এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় শয্যা খালি থাকা সত্ত্বেও ‘বেড নেই’ বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হয় এবং পরে চশমা পরা বা চতুর কৌশলে দালালের মাধ্যমে টাকা আদায় করে বেড পাইয়ে দেওয়ার নাটক সাজানো হয়।
​সচেতনমহল ও রোগীর স্বজনদের দাবি:
​এ ধরনের দালাল ও প্রতারক চক্রের তৎপরতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু লোক বা কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের প্রতারণা চালানো সম্ভব নয়। অবিলম্বে খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার এবং এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
​এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিইউ বেড বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চিকিৎসকের সুপারিশ অনুযায়ী বেড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ধরনের কোনো প্রতারক চক্রের সন্ধান পেলে কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।