সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রনালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে টমেটো আমদানি বন্ধ করে দেয়। তার পর থেকেই বিপুল পরিমান টমেটো চোরাই পথে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফলে কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সচেতন মহলের প্রশ্ন , কার স্বার্থে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে টমেটো আমদানি? এমন পরিস্থিতিতে
বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ক্ষতি রোধে ২ মাসের জন্য টমেটো আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী করেছে আমদানি কারক ব্যবসায়ী গন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ডিসেম্বর মাস থেকে আগষ্ট পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত টমেটো দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো হয়। তবে মাত্র দুই মাস পাশবর্তী দেশ থেকে আমদানি করে টমেটোর বিপুল পরিমান চাহিদা পূরণ করা হয়।
দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি টমেটোর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং চোরাচালান বন্ধের লক্ষ্যে দুই মাসের জন্য টমেটো আমদানির অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছে আমদানি কারক গন। জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার টমেটো আমদানির ওপর আগের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি অজ্ঞাত কারণে সরকার ভারত থেকে টমেটো আমদানি বন্ধ করার পর দেশের বাজারে দেখা দেয় তীব্র সংকট। অপর দিকে আমদানির আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ বা চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ টমেটো দেশে প্রবেশ করতে শুরু করে বলে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যায়। সিলেট অন্চলের বিভিন্ন বর্ডার পয়েন্ট দিয়ে প্রতিরাতে ট্রাক ভর্তি টমেটো অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে, যার পুরো সুবিধা যাচ্ছে অবৈধ চোরাকারবারীদের পকেটে।
বাজারে যোগান কমে যাওয়ায় এর সরাসরি মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। কিন্তু আমদানি বন্ধের পর কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে বর্তমানে বাজারে টমেটোর দাম বেড়ে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় ঠেকেছে। অতিরিক্ত মূল্যে টমেটো কিনতে গিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ ভোক্তারা।
বাজারের এই বিশৃঙ্খলা, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় দুই মাসের জন্য টমেটো আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবী জানান ব্যবসায়ীগন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের টমেটো আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে বৈধ পথে টমেটোর সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন বাজারে টমেটোর দাম পুনরায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেমে আসবে, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালান বন্ধ হয়ে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।
এদিকে বাজারে যেন সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানিকৃত টমেটোর দাম বেশি না রাখা হয়, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।






