অধিকাংশ পুরুষ মিলন করে পশুর মতো অজ্ঞানতায়। তারা জানেই না মিলন কী মিলনের প্রকৃত আনন্দ কী, কিংবা এর অন্তর্নিহিত রহস্য কোথায়।
যখন মানুষ মিলনে থাকে না তখন সে এর জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। আবার যখন মিলনে লিপ্ত হয়, তখন তার মনে ভয় কাজ করে কখন না জানি বীর্যপাত হয়ে যায়! ফলে সে কখনোই মিলনের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করতে পারে না।
কেননা যখন সে মিলন করছে, তখন তার মন বর্তমান মুহূর্তে থাকে না। তার মন কখনো অতীতে কখনো ভবিষ্যতে ছুটে বেড়ায় কখন বের হয়ে যাবে।সেই চিন্তায় সে অস্থির থাকে ফলে সেই মিলন তার কাছে শক্তিক্ষয় ছাড়া আর কিছুই হয়ে ওঠে না।
অথচ মিলনের গভীরে রয়েছে মহা আনন্দের এক রহস্য। আর সেই আনন্দকে যদি সচেতনতার সঙ্গে ধারণ করা যায়, তবে সেই আনন্দের মধ্য দিয়েও পরমাত্মা বা আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করা যায়; অন্তরের এক ভিন্ন জগতে এক আত্মিক মিরাজের দিকে যাত্রা করা যায়।
তাই এ পথের জন্য চাই একজন সিদ্ধ সঙ্গী যিনি শুধু দেহের সঙ্গী নন আত্মারও সঙ্গী। নয়তো সাধারণ কামনার সম্পর্কে সারা জীবন মিলন করেও মানুষ কেবল নিজের শক্তিই ক্ষয় করে যায়। যেমন সাপের মণি খেয়ে নেয় ব্যাঙ তেমনি অসচেতন কামনা মানুষের ভেতরের মূল্যবান শক্তিকে গ্রাস করে ফেলে।
সুতরাং এ কারণেই সুফিগণ যার-তার সঙ্গে সম্পর্ক ও মিলনে লিপ্ত হতে নিরুৎসাহিত করেছেন একজন সত্যিকারের সাধিকা বা আত্মিক সঙ্গিনী সারা জীবনের জন্য পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। কেননা, সাধিকা কখনো আপনাকে শুধু কামুক বানাবে না।বরং আপনাকে প্রেমিক হতে সহায়তা করবে।
সঙ্গিনী যদি প্রেমিকা না হয়ে শুধু কামিনী হয়, তাহলে তো আপনার নিস্তার নেই। আপনি বসবেন ধ্যান বা ইবাদতে।আর সে আপনাকে টানবে কেবল দেহের আকর্ষণে। তাহলে সাধনা কীভাবে হবে?
কিন্তু যখন দুজনেই প্রেমিক ও প্রেমিকা হয়ে ওঠে।তখন জীবন কাম থেকে প্রেমের দিকে ধাবিত হয়। যেখানে প্রেম সেখানে মন শান্ত ও স্থির থাকে; আর যেখানে অন্ধ কামনা সেখানে সর্বদা অস্থিরতা।
মানুষ ভাবে যত বেশি ভোগ করবে তত বেশি তৃপ্তি আসবে তত বেশি শান্তি পাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কামনাকে যত বেশি খাওয়ানো হয়, তার ক্ষুধাও তত বেশি বেড়ে যায়।
তাই একজন সত্যিকারের প্রেমিক যখন তার সঙ্গিনীকেও প্রেমিকা বা সাধিকা রূপে পায়, তখন তারা একে অপরের সাধনার পথে সহায়তাকারী হয়ে ওঠে। তারা একজন আরেকজনকে নিচের দিকে টানে না, বরং অন্তরের উচ্চতার দিকে এগিয়ে দেয়।
আর দুজনেই যদি কেবল কামুক হয় তবে একসময় তারা একে অপরের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই কারণেই নবী ওলীগণ আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন একজন পুণ্যবান জীবনসঙ্গী লাভের জন্য। কারণ সৎ সঙ্গী শুধু সংসারের সাথী নয় সে হতে পারে আত্মার পথেরও সহযাত্রী।
আর আপনি তখনই প্রকৃত অর্থে একজন পুণ্যবান স্ত্রী বা স্বামী লাভের উপযুক্ত হবেন যখন আপনি নিজেও পুণ্যবান হওয়ার পথে চলবেন যখন আপনার অন্তরে কামনার চেয়ে প্রেম বড় হবে, ভোগের চেয়ে আত্মার জাগরণ বড় হবে।
কারণ প্রেমিক হৃদয়ই প্রকৃত প্রেমিক সঙ্গীকে চিনতে পারে। আর যে নিজে আলো হতে শেখেনি, সে আলোর সঙ্গীকে ধারণ করবে কীভাবে?







