স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইআরআইডিপি-০৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগকারী যখন অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়েছেন, তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অভিযোগের নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে, যা অভিযোগ নথি গায়েব করার গুরুতর অভিযোগের জন্ম দিয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি পৃষ্ঠপোষকতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও স্ত্রী পারভীন আক্তার শিউলীর নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয় । বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার স্টাফ রির্পোটার মোঃ মিরাজ ভূঁইয়া গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু প্রায় কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি, কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি এবং কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় অভিযোগকারী গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পুনরায় একই বিষয়ে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, রুহুল আমিন খানের স্ত্রীর নামে ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৯৩৮ টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-৩২-০৬১৯, চেসিস নম্বর NZT260-3184956 এবং ইঞ্জিন নম্বর INZF 108280। এছাড়া রাজধানীর লালমাটিয়ার বুলবুলিকা ভবনের ৫ম তলায় ৬ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার ক্রয়মূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বরিশালে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এবং স্ত্রীর নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের তুলনায় এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ দায়েরের প্রায় কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর যখন অভিযোগকারী অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়েছেন, তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয় যে অভিযোগের নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় অভিযোগকারী এবং সচেতন মহলের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একটি এতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের নথি কীভাবে হারিয়ে গেলো বা গায়েব হয়ে গেলো। অভিযোগকারীর দাবি, এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরস্পর যোগসাজশে অনৈতিক সুবিধা লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা ভিন্ন কোনো কারণে অপরাধীকে অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে অভিযোগের নথি গায়েব করার ঘটনা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
অভিযোগ নথি গায়েব করার এই ঘটনা দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২০৪ অনুযায়ী আদালতের কাজে বাধা দেওয়া এবং দালিলিক প্রমাণ ধ্বংস করার অপরাধের আওতায় পড়ে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ধারা ২৬ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি কমিশনের তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য গোপন করলে তিনি তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এই ধারায় দুর্নীতির তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য গোপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তির বিধান রয়েছে। সরকারি চাকুরি আইন ২০১৮-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত করলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকুরি আইন ২০১৮-এর ধারা ৩৩ অনুযায়ী দায়ী কর্মচারীর নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী সকল সরকারি দপ্তরকে প্রাপ্ত অভিযোগ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশিকা ২০১৫ অনুযায়ী সকল সরকারি দপ্তরকে প্রাপ্ত অভিযোগ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অভিযোগকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অভিযোগের নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেবা প্রদান ও অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত এই নির্দেশনারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন নং ৫৪৫৬/২০১৩ মামলায় সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, কোনো সরকারি দপ্তর নাগরিকের অভিযোগ প্রাপ্তির পর যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে তা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩৫ অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী এবং কোনো কর্তৃপক্ষ বৈধ অভিযোগ উপেক্ষা করতে পারেন না। একই সাথে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তার অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা সংবিধানের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার নিজ নামে বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে এমন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দখলে থাকেন বা মালিকানা অর্জন করেন যা অসাধু উপায়ে অর্জিত হয়েছে এবং তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ বলিয়া মনে করিবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং তিনি উক্তরূপ সম্পদ দখল সম্পর্কে আদালতের নিকট বিচারে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করিতে ব্যর্থ হলে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব দশ বছর এবং অনূন্য তিন বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন এবং উক্তরূপ সম্পত্তিসমূহ বাজেয়াপ্ত যোগ্য হবে। এই ধারার উপধারা ২ অনুযায়ী বিচার চলাকালীন যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ নামে বা তার পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তির নামে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করিয়াছেন বা অনুরূপ সম্পত্তির দখলে রহিয়াছেন তাহলে আদালত অনুমান করিবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত অপরাধে দোষী যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে উক্ত অনুমান খণ্ডন করিতে না পারেন। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম আরিফ খান আপিল নং ৭৮/২০১৮ মামলায় উচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছেন যে সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে তা অবৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং সম্পদের উৎস ব্যাখ্যার দায়িত্ব অভিযুক্তের ওপরই বর্তাবে। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম মোহাম্মদ হোসেন দুদক আপিল নং ৩২/২০১৫ মামলায় বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে দুর্নীতির অপরাধ বলে রায় দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম আব্দুর রশিদ রিট পিটিশন নং ৯৮৪৫/২০১৮ মামলায় উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন যে স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়ের নামে রাখা সম্পদ যার উৎস ব্যাখ্যা করা না যায় তা অবৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বনাম মাহমুদুল হাসান আপিল নং ৯৮/২০১৭ মামলায় উচ্চ আদালত গাড়ির প্রকৃত মূল্য গোপন করে কম মূল্যে রেজিস্ট্রেশন করাকে কর ফাঁকির আওতায় পড়েছে বলে রায় দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী রুহুল আমিন খানের স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত গাড়িটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ধারা ১৬৫ অনুযায়ী কর ফাঁকিতে অনধিক ৫ বছর এবং অনূন্য ৩ মাস সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১-এর ধারা ৩৭ অনুযায়ী ভ্যাট ফাঁকিতে অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ফাঁকিকৃত করের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা মানি লন্ডারিং অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এই অপরাধে কমপক্ষে চার বছর এবং সর্বোচ্চ বারো বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদানের বিধান রয়েছে। পানামা পেপার্স মামলা রিট পিটিশন নং ৯০৭৬/২০১৬-এ বিদেশে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও দুদক যৌথভাবে তদন্ত করবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বনাম সেলিম আজাদ আপিল নং ১২৭/২০২০ মামলায় সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশি ব্যাংকে স্থানান্তর করা মানি লন্ডারিং অপরাধ বলে রায় হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বনাম মাসুদ আহমেদ আপিল নং ১৪৩/২০১৯ মামলায় বিদেশে অবৈধ সম্পদ রাখা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপিল নং ৩৯/২০১৬ মামলায় সরকারি পদমর্যাদার সুযোগ নিয়ে অর্জিত অর্থের হিসাব দিতে ব্যর্থতা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম জাহিদ হোসেন আপিল নং ৪৫/২০১৯ মামলায় উচ্চ পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম ফারুক আহমেদ আপিল নং ১১২/২০১৮ মামলায় অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের পক্ষে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম সাবরিনা আহমেদ আপিল নং ৭৩/২০২১ মামলায় জনস্বাস্থ্য সংকটকালে সরকারি কর্মকর্তার দুর্নীতি অতিরিক্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের করের টাকা, যার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া দুদক ইতিমধ্যে এলজিইডির বরিশাল বিভাগের ১৭টি প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিরোজপুরে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করে ১ হাজার ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক আটটি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে পিরোজপুর ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিন খান তদবির করে নিজের নাম অভিযোগ থেকে বাদ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী মোঃ মিরাজ ভূঁইয়া জানান, তিনি গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুনরায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে দ্বিতীয় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী অভিযোগ দায়েরের পর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সকল ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করা, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো, প্রকল্পের সকল আর্থিক লেনদেন ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা এবং তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া মাত্র দুদকে অভিযোগ প্রেরণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে বাধ্য হবেন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও অভিযোগ পেশ করবেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা উচিত। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে দুদকের এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের পথই রুদ্ধ হয়ে গেছে, যা দুর্নীতিকে আরও প্রশ্রয় দেওয়ার নামান্তর বলে মনে করছেন তারা। সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা থেকে আসে এবং এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কর্তৃপক্ষের এই নিষ্ক্রিয়তা ও অভিযোগ নথি গায়েবের ঘটনা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে এবং জনগণের আইনের প্রতি বিশ্বাস হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এ প্রতিবেদন প্রকাশকালে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা, সরকারি অর্থের অপব্যবহারের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে এবং অভিযোগ নথি গায়েবের ঘটনারও স্বতন্ত্র তদন্ত হবে। রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে এবং অভিযোগ নথি গায়েবের বিষয়টি নিরসন না হলে এটি দুর্নীতিবাজদের আরও সাহসী করে তুলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান, দেরি না করে রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা করুন এবং অভিযোগ নথি গায়েবের ঘটনারও তদন্ত করুন। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। জনগণের করের টাকা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করুন।
সংবাদটি চলমান এবং আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।







