, ,

এলজিইডি গিলে খেয়েছে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদার পর্ব -০১

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের সহযোগী ত্রিরত্নের অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে এলজিইডিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং অধিকতর অনুসন্ধানে ফিরোজ আলম তালুকদারের সহযোগী হিসেবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
জানা গেছে এল জি ই ডি ঢাকার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফিরোজ আলম তালুকদার লুটেরা গল্পের মূল নায়ক। ফিরোজ আলম তালুকদারের অধীনস্থ ও ঘনিষ্ঠতার সুবাদে উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিব মিলে এক লুটেরা সাম্রাজ্য গঠন করে। এলজিইডি কে লুটেপুটে খেতে সহযোগিতা করে ততকালীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনে দায়িত্বরত প্রকৌশলী শেখ রাজিবের স্ত্রী পুলিশের এস আই।
জানা যায় প্রকৌশলী রাজিবের স্ত্রী গণভবনে চাকুরির সুবাদে রাজিবের মুখের কথাকেই গণভবনের কথা বলে অফিসের সবাই মনে করত। প্রকৌশলী ফিরোজ -রাজিব একই সুত্রে গাঁথার সুবাদে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারেরর নেতৃত্বে বিভিন্ন অযুহাতে প্রকল্পের টাকা আত্নসাত করেছে বলে সুত্র জানায়।
সাবেক আওয়ামী সরকারের পতনের পর এলজিইডি ভবনের কর্মচারী ও ঠিকাদারেরা প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদার কে লাঞ্চিত করে জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয় বলে বিশ্বত সুত্র নিশ্চিত করে। এবং এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর মাঝে মাঝে লুকিয়ে এসে অফিস করত বলে জানা যায়। বর্তমানে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদার কে প্রধান কার্যালয়ে বদলী করে আনা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, GDP-03 প্রকল্পের ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন দেবীনগর আজর আলী মোল্লার বাড়ি হতে হাশেম মাদবর-করিম মোল্লা সড়ক যা ৬৩০ মিটার দৈর্ঘ্য রাস্তা,
ঠিকাদার: মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজ।
প্রোপাইটর: গাজী হাফিজুর রহমান।
চুক্তি মূল্য: ৬৭,০০০০০।
কার্যাদেশ তারিখ: ০৬/১১/২০২২ ইং।
কাজ সমাপ্তির তারিখ:০৯/১০/২৩ ইং।
কাজের মান নিম্নমানের, কাজ না করে অতিরিক্ত ৩৭,০০,০০০ টাকা বিল করার পরও কাজটি বন্ধ রয়েছে। এতে বিল প্রদানকারী কর্মকর্তা হানিফ মোহাম্মদ মুর্শিদীর সহযোগী হিসাবে উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজ আলম তালুকদারের সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া গেছে।

তাছাড়া ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার রাধানগর করিম খানের বাড়ি, বাদশা মাধবের বাড়ি কৃষ্ণদেবপুর স্যাটেলাইট স্কুল সড়ক উন্নয়ন। প্রকল্পের নাম:- IRIDP-3, ঠিকাদার বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন যার প্রোপাইটর: আবুল কালাম আজাদ। মতিঝিল, ঢাকা।
চুক্তি মূল্য: ১২২,০০০০০।
কার্যাদেশ তারিখ:২১/০৪/২০২২ ইং।কাজ সমাপ্তির তারিখ: ০৬/০৩/২৩ ইং। কাজের মান নিম্নমানের, কাজ না করে অতিরিক্ত বিল ৮৭,৫০,০০০ টাকা দেওয়ার পর ও কাজটি সময় মতো না করায় ১১/৯/২৫ ইং তারিখে বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত বিল গ্রহণের পর ঠিকাদার কাজ করছে না মর্মে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন বান্দুরা (আলালপুর)- বারুয়া খালি শিকারী পাড়া রোড, দৈর্ঘ্য ৫.৩১ কিঃমিঃ প্রশস্থ ও শক্তিশালী করণ প্রকল্পে ” ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক শক্তিশালী করণ ও প্রশস্ত করণ প্রকল্প এলাকার জনগণের অভিযোগ।ঠিকাদারের নাম: এস এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। প্রোপাইটর: সাইফুল ইসলাম। মিরপুর-১, ঢাকা।
চুক্তি মূল্য: ৯,২০,৭৮,৫৩৩,০০।
কার্যাদেশ তারিখ: ৪/০৯/২০২২ ইং।কাজ সমাপ্তির তারিখ: ২৭/০২/২৪ ইং।
কাজ না করে অগ্রীম ৩২০১৯০০ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে এবং কাজটি সময় মতো না করায় ৪/৫/২৫ ইং তারিখে বাতিল করা হয়েছে।
সুত্র আরো জানায় ঢাকার একটি ব্রিজের এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করেন তিনি, বিনিময়ে তিন বিঘা জমি পেয়েছেন। ব্রিজটি এল জি ই ডির আওতাধীন পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায়।
সত্যতা প্রমানে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের তিনটি কাজের নমুনা প্রকাশ করা হল৷ শীঘ্রই তার সকল দূর্নীতির শ্বেতপত্র তৈরি ও পরবর্তী সংখ্যায় স্ব বিস্তারে প্রকাশ হবে।

এলজিইডি প্রধান কার্যালয় ঘুরে দেখা যায় প্রকৌশলী ফিরোজ আলম সাবেক আওয়ামী ক্ষমতা অপব্যবহারকারী বর্তমানে বিএনপির মোড়কে বিভিন্ন তদবির বানিজ্য ও বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সত্যতা যাচাইয়ে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।কাজ না করিয়ে বিল দিতে পাবেন না স্বীকার করে তিনি বলেন এর দায়ভার উনার একার নয় বরং থানা ইঞ্জিনিয়ার সহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও জানার পরামর্শ দেন৷
(চলবে)