, ,

আশুলিয়ায় প্রীতি গার্মেন্টসে গ্যাস বিস্ফোরণ: আমরা কি তবে অতীতের শিক্ষা ভুলেছি?

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অনেকেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই ধরনের ভয়াবহ বিপদের ব্যাপারে আমাদের ‘দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা’ পত্রিকায় গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখেই ‘গাজীপুর সহ সারা দেশে অনুমোদনহীন ক্যাসকেড সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন: বাড়ছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি, সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র’ শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।আজ আশুলিয়ার প্রীতি গার্মেন্টসের এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে দিল— আমাদের সেই আগাম সতর্কতা কতটা যৌক্তিক ছিল এবং তা অবহেলা করার মূল্য কতখানি চড়া হতে পারে।অতীতের সতর্কবার্তা ও আজকের বাস্তব চিত্রআমাদের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছিল কীভাবে দেশের শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিক কোনো ধরনের আইনি অনুমোদন ছাড়াই চাকাযুক্ত ট্রাকে সিএনজি (CNG) ক্যাসকেড সিলিন্ডার বোঝাই করে মহাসড়ক দিয়ে উচ্চ চাপের গ্যাস পরিবহন করছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে উন্মুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গ্যাস খালাস করার যে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা আমরা প্রকাশ করেছিলাম, ঠিক সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল আশুলিয়ার জামগড়ায়। প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানার চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই লরি বা কাভার্ডভ্যান থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত, যা মুহূর্তেই আশেপাশের সাধারণ পথচারী ও শ্রমিকদের জীবন কেড়ে নেয়।এখনো সচেতন না হলে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় বিপর্যয়একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে দায়সারা বিবৃতি দেওয়ার চিরচেনা সংস্কৃতি আমরা আবারও দেখছি। কিন্তু মূল প্রশ্নটি এখনো উপেক্ষিত— অনুমোদনহীন ক্যাসকেড সিলিন্ডার ও ভ্রাম্যমাণ লরি দিয়ে এই উচ্চ চাপের বিপজ্জনক গ্যাস কারখানায় সরবরাহের অনুমতি কে দিল? কেন আমাদের পত্রিকার আগাম সতর্কবার্তার পরেও বিস্ফোরক পরিদপ্তর বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি?আমরা আমাদের পত্রিকার পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— আশুলিয়ার এই ৮ জন মানুষের মৃত্যু কেবল একটি ‘দুর্ঘটনা’ নয়, এটি চরম গাফিলতির এক নির্মম পরিণতি। আজ যদি আমরা এই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাসকেড সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন এবং অবৈজ্ঞানিক খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারি, তবে ভবিষ্যতে এর চেয়েও শতগুণ বড় কোনো বিস্ফোরণ বা জানমালের ক্ষতি আমাদের দেখতে হবে।প্রশাসন এবং কারখানা মালিকদের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন— অবিলম্বে এই অবৈধ গ্যাস ব্যবসার সিন্ডিকেট ভেঙে দিন। আইন মেনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করুন। না হলে আজ আশুলিয়া কেঁদেছে, আগামীকাল হয়তো অন্য কোনো শিল্প নগরী লাশের স্তূপে পরিণত হবে। আমরা আর কোনো মায়ের বুক খালি দেখতে চাই না।