, ,

স্বদেশ বিচিত্রার সংবাদে ১২ দিন পর টমেটো আমদানির আইপি, রাজস্ব ক্ষতি ৪৫ কোটি টাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক: ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ টমেটো আমদানি আই পি বন্ধ করে দেয়ার পর আজ থেকে আবার টমেটো আমদানির আইপি দিল সরকার। ফলে ১২ দিন আমদানী বন্ধ থাকার পর আবার টমেটো আমদানির সুযোগ পাচ্ছে সকল সবজি আমদানিকারক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক ( আমদানি ) শওকত ওসমান মজুমদার। তিনি জানান,পূজা উপলক্ষে দেশে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা পূরনে এবং বাজার স্থিতিশীলতার জন্য সরকার পূনরায় টমেটো আমদানির আইপি প্রদান করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি নোটিশের মাধ্যমে টমেটো আমদানির এই আইপি সোমবার রাতে প্রকাশ করা হয়। অপরদিকে সরকার গত ৩০ সেপ্টেম্বর টমেটো আমদানি আইপি স্থগিত করে দেয়ার পর থেকেই দেশে বিপুল পরিমান টমেটো চোরাই পথে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ১২ দিনে ৪১ থেকে ৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। সচেতন মহলের প্রশ্ন , কার স্বার্থে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল টমেটো আমদানি? এমন পরিস্থিতিতে
বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ক্ষতি রোধে চলতি বছরের অক্টোবর ও নবেম্বর ২ মাসের জন্য টমেটো আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী করেছে আমদানি কারক ব্যবসায়ী গন। সবজি আমদানী কারক ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আরাফাত তালুকদার জানান, প্রতি বছরের মত এবারও নভেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত আমদানির আইপি প্রদান করা হউক। আইপি চালু থাকলে এ সেক্টরে কর্মরত কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ দেশে উৎপাদিত টমেটো বাজারে আসা পর্যন্ত তাদের রুজিরোজগার ঠিক থাকবে। ডিসেম্বরে নতুন সবজি বাজারে আসার পূর্বে টমেটো আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে এ ব্যবসায় জড়িত হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ বেকার হয়ে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ডিসেম্বর মাস থেকে আগষ্ট পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত টমেটো দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো হয়। তবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নবেম্বর মাত্র তিন মাস পাশবর্তী দেশ থেকে আমদানি করে টমেটোর বিপুল পরিমান চাহিদা পূরণ করা হয়। আগাম উৎপাদন কে সুবিধা প্রদানের জন্যই সরকার ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে আইপি স্থগিত করেছিল বলে আগামীর সময় কে জানান,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক ( আমদানি ) শওকত ওসমান মজুমদার।
দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি টমেটোর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং চোরাচালান বন্ধের লক্ষ্যে চলতি মাস থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত টমেটো আমদানির অনুমতি চায় সবজি আমদানী কারকগন । জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার টমেটো আমদানির ওপর আগের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

৩০ সেপ্টেম্বর২০২৬ অজ্ঞাত কারণে সরকার ভারত থেকে টমেটো আমদানি বন্ধ করার পর দেশের বাজারে দেখা দেয় তীব্র সংকট। অপর দিকে আমদানির আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ প্রবেশ করছিল টমেটো। যার পুরো সুবিধাটাই ভোগ করছিল অসাধু ব্যবসায়ীরা।

বাজারে যোগান কমে যাওয়ায় এর সরাসরি মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। কিন্তু আমদানি বন্ধের পর কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে বর্তমানে বাজারে টমেটোর দাম বেড়ে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় ঠেকেছে। অতিরিক্ত মূল্যে টমেটো কিনতে গিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ ভোক্তারা।

বাজারের এই বিশৃঙ্খলা, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি মাস থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত টমেটো আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবী জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীগন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের টমেটো আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ পথে টমেটোর সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন বাজারে টমেটোর দাম পুনরায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেমে আসবে, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালান বন্ধ হয়ে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আমদানী কারকদের সূত্রে জানাযায়, সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটোতে ১৩. ৩৮ পয়সা ডিউটি ধরে প্রতিদিন সরকার রাজস্ব পেত এক কোটি চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ লাখ টাকা আর ২৬ দিনে পেয়েছে ছয়ত্রিশ কোটি পঞ্চাশ থেকে ষাট লাখ টাকা। আর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ দিনে বাড়তি দর ৩৮.৪০ পয়সা দরে ২ দিনে সরকার রাজস্ব পায় সাত কোটি ষাট লাখ টাকা। এমনি ভাবে আমদানী বন্ধ থাকায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর ১২ দিনে প্রায় একচল্লিশ কোটি থেকে পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।
এদিকে বাজারে যেন সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানিকৃত টমেটোর দাম বেশি না রাখা হয়, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারন ভোক্তারা। আমদানী কারকদের দাবী ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত আইপি বহাল রাখা আর সরকার আপাতত নবেম্বরের ৫ তারিখ পর্যন্ত আইপি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানান,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক ( আমদানি ) শওকত ওসমান মজুমদার।