, ,

কেশবপুরে শতাধিক প্রতিমায় সতী মায়ের ৫১ পীঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

অমিতাভ চৌধুরী, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামে শ্রীশ্রী রাধা রাসবিহারী সার্বজনীন মন্দিরে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সতী মায়ের ৫১ পীঠের বিভিন্ন রূপ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেবীর বিভিন্ন রূপ ও পৌরাণিক কাহিনি প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন আয়োজকেরা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

হিন্দুধর্মে সতীপীঠ বা শক্তিপীঠ অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। পুরাণ ও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সতীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, অলংকার বা দেহাংশ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়েছিল। সেই স্থানগুলোই সতীপীঠ নামে পরিচিত। এসব পীঠে দেবী দুর্গা বা আদ্যাশক্তির বিভিন্ন রূপের পূজা করা হয়। সতী মায়ের ৫১ পীঠের পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় তাৎপর্যকে কেন্দ্র করেই সারুটিয়া গ্রামের মন্দিরটিতে শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মন্দিরে গত দুই বছর ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরও মন্দিরটিতে শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছিল। এবারও সতী মায়ের ৫১ পীঠের বিভিন্ন রূপ তুলে ধরতে শতাধিক প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সারুটিয়া গ্রামের প্রায় ৭০টি পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এ দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছেন। নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপূজার পাশাপাশি মন্দিরটিতে কালীপূজা, সরস্বতী পূজা ও ভাগবত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পূজা উপলক্ষে মন্দিরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্দিরের সভাপতি রিপন কুমার দাস বলেন, “নিজেদের অর্থায়নে আমরা এ পূজার আয়োজন করছি। শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে সতী মায়ের ৫১ পীঠ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে চাই।”

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক আরাধন দাস বলেন, “আমাদের মন্দিরে গত বছরও শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছিল। এবারও একইভাবে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান থাকবে। দর্শনার্থীরা যেন সুন্দর পরিবেশে প্রতিমা দর্শন ও পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”

স্থানীয় প্রবীণ পাগল চন্দ্র দাস বলেন, “শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করায় আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের এলাকায় এমন আয়োজন দেখতে ভালো লাগে। এতে ধর্মীয় উৎসবের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।”

স্থানীয় নীলকুমার দাস বলেন, “সতী মায়ের ৫১ পীঠকে কেন্দ্র করে শতাধিক প্রতিমার এমন আয়োজন আমাদের এলাকার জন্য বিশেষ আকর্ষণ। এ আয়োজন দেখতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসবেন বলে আশা করছি।”

যুব কমিটির সদস্য নারায়ণ দাস বলেন, “পাশের নিমতলায় এবার পূজা না হওয়ায় আমাদের মন্দিরে দর্শনার্থীদের অনেক ভিড় হবে বলে আশা করছি। আমরা সবাই মিলে পূজার আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।”

মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ দাস বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের পাশে রয়েছেন। তাঁরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাঁদের সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের আশা করছি।”

আয়োজকেরা জানান, সতী মায়ের ৫১ পীঠের পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় তাৎপর্য প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম হিন্দুধর্মের পৌরাণিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে বলে তাঁরা আশা করছেন। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।