, ,

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী ও পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট পারভীন আক্তার খান মেরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট পারভীন আক্তার খান মেরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। তিনি গত বছর এই দিনে ১৭.১০.২০২৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ১ কন্যা ও ১ পুত্র, জামাতা ও নাতি সহ অসংখ্য গুণ গ্রাহী রেখে মৃত্যবরণ করেন।

ব্যক্তিগত, পেশাগত ও পারিবারিক জীবনে সফল লেখিকা খ্যাতিমান কর্পোরেট আইনজীবী ও পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ এস এম কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী। তার বড় সন্তান প্রিয়াঙ্কা কবির অথৈ অস্ট্রেলিয়ার একটি বহুজাতিক ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। তিনি তার স্বামী যিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ও একমাত্র সন্তান সহ সিডনিতে বসবাস করছেন। একমাত্র সন্তান শেখ আদনান কবির আদর কানাডার আর্মিতে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সমস্ত পারিবারিক মামলার সহিত তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের আইনজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘদিন পেশাদারিত্ব ও সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে- বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।মানবাধিকারের উপর পোস্ট গ্রাজুয়েট করা লেখিকা আজীবন লড়েছেন মানবাধিকার ও সমতার পক্ষে।

নারী ও শিশুর অধিকার প্রচেষ্টায় লেখিকা ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট । পথ শিশুদের জন্য তিনি নিয়মিতভাবে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। নারী নির্যাতন দমনে তার ভূমিকা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন।

টেলিভেশন টকশোর নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। মিডিয়ায় সর্বদা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন। তিনি লেখালেখি ও করেছেন প্রচুর।জীবনের বাঁকে বাঁকে, ব্যাঙের মেয়ের বিয়ে তার আলোচিত বই। পাঠক মহলে বই দুটি পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। মৃত্যুচিন্তা, সমাজ বাস্তবতার দর্শন, মুক্তিযুদ্ধ তার বইয়ের অন্যতম বিষয়বস্তু। সমাজ বাস্তবতা ও সমসাময়িক নাগরিক জীবনের হালচাল প্রকাশ করতে আশ্রয় নিয়েছেন রুপক ও অলঙ্কারের, তবে পাঠকের সামনে তা উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে। অপ্রকাশিত বই ধূসর অতীত সমালোচকদের নজর কেড়েছে। ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেতে পারে বলে সুধীজন অভিমত দিয়েছেন।লেখক হিসেবে পেয়েছেন অভূতপূর্ব সম্মাননা। একুশে স্মৃতি সম্মাননা ২০২৩, সার্ক পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড ২০২২, মানবাধিকার শান্তি এ্যাওয়ার্ড ২০২৩ সহ অসংখ্য পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন এই খ্যাতিমান লেখিকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় সমস্ত প্রগতিশীল ও নারী বান্ধব আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন।
স্কুল জীবন থেকে তিনি খেলাঘর সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

ফরিদপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব গত বছরের এই দিনে সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে প্রয়াত হন। তার প্রয়াণ দিবসে জানাই অতল শ্রদ্ধা।