আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর পালিত হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত এই দিনটি বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের অধিকার, তাদের অবদান এবং অভিবাসনজনিত চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাসমূহের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসের প্রাক্কালে লিবিয়া কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মানবেতর জীবনযাপন নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, লিবিয়া ভিরগানাম জাওয়াইয়া,ত্রিপলি কারাগারে আটক এসব বাংলাদেশি অভিবাসী দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। অমানবিক পরিবেশ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা, খাদ্য ও আইনি সহায়তার অভাব তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ভিকটিম পরিবারের সদস্য মো. আবু ছায়েদ ও মো. রাকিব এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন,
“আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসের আগে আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। প্রবাসে গিয়ে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া মানুষগুলো আজ কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক অভিবাসীরা অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বৈধ কাগজপত্রের অভাব, নিয়োগকর্তার নির্যাতন কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা কারাগারে বন্দি হন। অথচ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।
মানবাধিকার নেতারা দাবি করেন, অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ বন্দিজীবনের কারণে আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে রয়েছে। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, “আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি। এই দিনে আমরা লিবিয়া কারাগারে বন্দি আমাদের প্রবাসী ভাইদের দ্রুত মুক্তি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
আটককৃতদের নামের তালিকা- শাহাদাৎ হোসেন আরমান, পিতা আবু ছায়েদ,মাতা আয়েশা বেগম,বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী, মো. রাজু পিতা আবুল খায়ের, মাতা নয়ন আক্তার, চাটখিল, নোয়াখালী, মো. পারভেজ পিতা মো.আলী করিম, মাতা তাজ নেহার বেগম,বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী, রাসেল মাতুব্বর পিতা মজিদ মাতুব্বর, মাতা সালমা বেগম, মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর, আবুল কাশেম পিতা মো.শামছু ব্যাপারী, মাতা জবেদা বেগম, মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর, সুমন হাওলাদার পিতা হক সাব মিয়া, মাতা সেতরা বেগম, বাঞ্ছারামপুর, বি-বাড়িয়া, মো. নাজমুল ইসলাম পিতা ফুরুক মিয়া, মাতা মোছাঃ নার্গিস আক্তার, লাখাই, হবিগঞ্জ, আবদুস সাত্তার মোহাম্মদ, পিতা আবদুর রহমান আহমেদ, মাতা মাহাবুবা রহমান,মৌলভীবাজার সদর,মৌলভীবাজার, মো.আবদুর রাজ্জাক পিতা মো. রফি উদ্দিন, মাতা আমেনা খাতুন, মাদারীপুর সদর,মাদারীপুর, মো.নোমান আহম্মদ সাজু, পিতা মো.আবুল নুর মাতা রোকসেনা বেগম,সুনামগঞ্জ সদর,সুনামগঞ্জ, দেলোয়ার হোসেন, পিতা মোসলেম মাতা রাহেমুন বেগম, শিবচর,মাদারীপুর, নাসির, পিতা দেলোয়ার খান মাতা নাজমা বেগম,মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর, মো.আকাশ মিয়া, পিতা গিয়াস উদ্দিন, মাতা সরুফা আক্তার, লাখাই, হবিগঞ্জ, রেজাউল করিম, পিতা বেলায়েত হোসেন, মাতা শাহিন আক্তার, সোনাগাজী,ফেনী,আবু বক্বর মল্লিক, পিতা আমজেদ মল্লিক, মাতা আমিরুন নেছা, মোল্লারহাট, বাগেরহাট, খলিল মাতব্বর পিতা আলতাব মাতব্বর, মাতা রিজিয়া বেগম, মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর, জাকির মিয়া পিতা মোশারফ হোসেন, মাতা রাশেদা বেগম, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ, রোবেল হোসেন, পিতা আতিয়ার রহমান, মাতা রোমেলা বেগম,চুয়াডাঙ্গা সদর, চুয়াডাঙ্গা, মিজানুর রহমান মাসুদ, পিতা মাওলানা শামছুর রহমান, মাতা মোসাঃ সালমা আক্তার, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ, ইসহাক মিয়া, পিতা মসকুদ আলী, মাতা ময়না বেগম, মিটাইমন, কিশোরগঞ্জ, সাজ্জাদ হোসেন, পিতা মো. আব্দুল মতিন, মাতা নুর আয়েশা ছিদ্দিকা, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী, ফয়সাল হোসেন, পিতা আরব আলী, মাতা নুরনাহার বেগম,অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, সৌরভ হোসেন, পিতা মো.রফিক উল্ল্যা,মাতা জোসনা বেগম,সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী, নাছির খান,পিতা দেলোয়ার খান, মাতা নাজমা বেগম, মাদারীপুর সদর, মাদারীপুর। শেষে তারা সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস উপলক্ষে লিবিয়া ভিরগানাম জাওয়াইয়া, ত্রিপলি কারাগারে বন্দি ২৬ জনের মুক্তির দাবিতে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত থাকবেন লিবিয়া কারাগারে বন্দীদের স্বজনরা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নূর, আমজনতার দলের সদস্য সচিব মোঃ তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী সাম্মী আক্তার মানবাধিকার সম্মিলিত জোটের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম তামিজী, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল-আমিন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, সাবেক সচিব ড. আনিসুল আউয়াল অপরাজেয় বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ভিকটিম পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ ছায়েদ। সভাপতি করবেন প্রবাসীদের ডাকের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা।







