, ,

আত্মগোপনে থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহারের চেষ্টা, দেবদাস রায় বাবুলের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবদাস রায় বাবুলের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্নভাবে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে আগের মতোই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তুষভান্ডার ইউনিয়নের ক্যাপ্টেন মোড় এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম বিপুল, মো. শহিদুল ইসলাম ইতি, রবিউল ইসলাম চঞ্চল ও সুবোধ চন্দ্র রায় দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষমতার প্রভাবের শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার পতনের পরও নূর ইসলাম বিপুল ও মো. শহিদুল ইসলাম ইতি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ মে ২০২৬ এবং ১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখসহ বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বা পূর্ববিরোধ কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, বর্তমানে আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে আগের মতো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দেবদাস রায় বাবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়েও দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উত্তর ঘনেশ্যাম মৌজার ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে অভিযোগ

অন্যদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘনেশ্যাম মৌজার ৪৮৪০ দাগের ৪০ শতাংশ জমি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমিটি মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে নূর মোহাম্মদ বিপুলের ভোগদখলে রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ওই ভোগদখলীয় জমি প্রশাসনিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটির দখল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমিটির দলিলপত্র, খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে জমি দখলের চেষ্টা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ক্যাপ্টেন মোড়ের মার্কেটের জায়গা নিয়ে বিরোধ

তুষভান্ডার ইউনিয়নের ক্যাপ্টেন মোড় এলাকায় একটি মার্কেট ও জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি উভয় পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। তবে বর্তমানে ওই মার্কেটের মালিকানা ও দখল নিয়ে এক পক্ষ একক মালিকানা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গার কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে যাতে কোনো পক্ষ সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বক্তব্যের অপেক্ষা

দেবদাস রায় বাবুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, জমি দখল এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা, প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা