, ,

আগামীকাল শহীদ ইসমাইল হোসেন আল আমিন এর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীর স্মরণ

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামীকাল শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাহসী নেতা, সাবেক ধানমন্ডি (বর্তমান কলাবাগান) থানার ১৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি এবং আরাফাত রহমান স্মৃতি সংসদের সদস্য শহীদ ইসমাইল হোসেন আল আমিনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। এক মেধাবী, মানবিক ও ত্যাগী তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা করার এই ইতিহাস আজো বেদনাবিধুর স্মৃতি হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের হৃদয়ে।

২০১১ সালের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাতিরপুল প্রধান সড়ক থেকে ইসমাইল হোসেন আল আমিনকে তুলে নিয়ে যায়—অভিযোগ পরিবারের। এরপর শুরু হয় তার নিখোঁজ থাকার দীর্ঘ ও অসহনীয় অপেক্ষা। ১২ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান একটি লাশ উদ্ধার হলে পরদিন মর্গে গিয়ে পরিবার তা আল আমিনের লাশ বলে সনাক্ত করে।
২০১১ সালের ১০ ডিসেম্বর তাকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাত্র ২৬ বছর বয়সী এই তরুণকে হারিয়ে শোকমগ্ন হয়ে পড়েন তার পরিবার, সহযোদ্ধা এবং এলাকাবাসী।

১৪ বছর ধরে বিচারহীনতার বেদনাময় পথচলা

আল আমিনের মা শিরিন আক্তার আজও সন্তানের হত্যার বিচার চান। এক বৃদ্ধা মা, যিনি বিগত ১৪ বছর ধরে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন বারবার—কিন্তু ন্যায়বিচার তার কাছে অধরাই রয়ে গেছে।
তিনি মায়ের ডাকের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে এসে একই আহ্বান জানান—
“আমার ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”

১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

শহীদ আল আমিনকে স্মরণে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) বাদ আছর তার নিজ বাড়ি—
কলাবাগান থানার ২৩ নং ফ্রি স্ট্রিট, হাতিরপুলে
মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন—

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম,

মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা,

স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সবার প্রতি উপস্থিত থাকার আহ্বান

ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ ইসমাইল হোসেন আল আমিনের মা শিরিন আক্তার সবাইকে দোয়া-মাহফিলে যোগ দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন—
“১৪ বছর ধরে বিচার পাইনি, তবুও আশা ছাড়িনি। সবার দোয়া ও উপস্থিতি আমাকে এগিয়ে চলার শক্তি দেয়।”

মঞ্জুর হোসেন ঈসার বার্তা

ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মায়ের ডাকের অন্যতম সংগঠক
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন—
“শহীদ ইসমাইল হোসেন আল আমিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক তরুণ আদর্শের নাম। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার এই শহীদের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে আমরা সবসময় তার পরিবারের পাশে আছি।”

শহীদ আল আমিন—এক অনন্ত প্রেরণা

যে বয়সে একটি তরুণের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার কথা, সেসময়ই তাকে হত্যা করা হয়। আল আমিন আজ বাংলাদেশে গুম-খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।