একটি স্বপ্ন, একটি আশা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অকাল যবনিকাপাত ঘটল রাজনগরের উত্তরভাগ ইউনিয়নের জোড়াপুর গ্রামে।
শত শত মানুষের অশ্রুসিক্ত নয়নে আর বুকফাটা আর্তনাদে চিরবিদায় নিলেন মেধাবী ছাত্র রাকিব হাসান সাকিব। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১:০০ ঘটিকায় জোড়াপুর ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে যখন তার জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তখন উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখ ছিল ভেজা, আর আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল শোকের মাতমে।
স্বপ্নের অপমৃত্যু
কান্দিগাঁও স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র সাকিবের চোখে ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তার শরীরে থাবা বসায় মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। কলমে যখন তার ভাগ্য লেখার কথা ছিল, তখন তাকে লড়াই করতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সাথে।
শোকাতুর জানাজা ও শেষ বিদায়
দীর্ঘদিন মরণঘাতী এই রোগের সাথে অসম লড়াই চালিয়ে অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯:৩০ মিনিটে নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাকিব (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার তার জানাজায় অংশ নেন আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী এবং তার প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সহপাঠী ও শিক্ষকদের আহাজারি
সাকিবের অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠীরা। জানাজায় উপস্থিত তার এক বন্ধু কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সাকিব আমাদের সাথে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ও আজ আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেল। ওর শূন্যস্থান কোনোদিন পূরণ হবে না।”
সাকিবের শিক্ষকরাও তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, সাকিব কেবল একজন মেধাবী ছাত্রই ছিল না, বরং তার নম্রতা ও শিষ্টাচার সবার হৃদয় জয় করেছিল।
মৃত্যুকালে সাকিব তার বাবা-মা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এই অকাল চলে যাওয়া রাজনগরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় পুরো এলাকাবাসী পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছেন। শোকাতুর এই মুহূর্তে সাকিবের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।






