, ,

১২৮তম প্রদর্শনীতেও অপ্রতিরোধ্য নাট্যতীর্থের ‘দ্বীপ’

নিউজটি শেয়ার করুন

বিনোদন প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আরও একটি চমৎকার সন্ধ্যা উপহার দিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যসংগঠন ‘নাট্যতীর্থ’।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হয়ে গেল দলটির বহুল প্রশংসিত প্রযোজনা ‘দ্বীপ’ নাটকের ১২৮তম প্রদর্শনী। সম্পূর্ণ হাউসফুল না হলেও এদিন সাধারণ দর্শনার্থী ও থিয়েটারপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিপুল উপস্থিতি বিনোদন পাড়ায় দারুণ এক ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।

সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শনী শুরুর আগেই এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের সামনে দর্শকদের বেশ ভালো ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুরো হল কানায় কানায় পূর্ণ না হলেও আসন সংখ্যার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, প্রখ্যাত নাট্যকার, প্রবীণ-নবীন পরিচালক এবং সাধারণ নাট্যানুরাগীরা। শত শত দর্শকের এমন সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, মানসম্পন্ন প্রযোজনার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আজও অটুট।

প্রখ্যাত নাট্যকার উৎপল দত্তের রচনা এবং বিশিষ্ট নাট্যজন তপন হাফিজের নির্দেশনায় নির্মিত এই নাটকটি এদিনও দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। গভীর জীবনমুখী বক্তব্য ও সমকালীন প্রেক্ষাপটের নিখুঁত চিত্রায়নে হলের ভেতরে তৈরি হয় একাত্মতার পরিবেশ। দৃশ্য শেষে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিই বলে দিচ্ছিল নাটকটি কতটা উপভোগ করেছেন তারা।

মঞ্চে চরিত্রগুলোর জীবন্ত রূপায়ণে ছিলেন তপন হাফিজ, সাদিয়া ইসলাম শান্তা, এস এম শামসুর রহমান পেরু, কহিনুর আলম এবং ডা. জিল্লুর কামাল। তাদের শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়শৈলী দর্শকদের কাহিনীর একেবারে গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকটির নেপথ্যের কারিগরি দিকগুলোও ছিল অত্যন্ত নান্দনিক। ফয়েজ জহিরের মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা, এ কে আজাদের আবহ সঙ্গীত, কাজী শিলার পোশাক পরিকল্পনা এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ের চমৎকার রূপসজ্জা নাটকটিকে একটি অনবদ্য অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযোজনায় পরিণত করে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ‘দ্বীপ’ আজ তার ১২৮তম প্রদর্শনীর মাধ্যমে আবারও বুঝিয়ে দিল, ভালো কাজের কদর দর্শক সবসময়ই করে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও উপস্থিতি দেশের থিয়েটার চর্চায় নিঃসন্দেহে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।