, ,

সাঘাটার কচুয়ায় ফের আলোচনায় চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার, উন্নয়ন-জনসেবায় আস্থা স্থানীয়দের

নিউজটি শেয়ার করুন

‎গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৫ নম্বর কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খন্দকারকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা, নাগরিকসেবা, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
‎‎কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে মো. লিয়াকত আলী খন্দকারকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ ইউনিয়নে সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১৪টি গ্রাম, আটটি বাজার ও একটি হাট রয়েছে।
‎
‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি শুনছেন লিয়াকত আলী খন্দকার। জন্মনিবন্ধন, ভাতা, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
‎‎ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণের পরিবেশ ও নিরাপত্তা উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফুলের বাগান, সাইকেল রাখার ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা, যাত্রীছাউনি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ-কালভার্টসহ চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান।
‎
‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও জনপ্রতিনিধির সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন লিয়াকত আলী খন্দকার। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির নিয়মিত উপস্থিতি এবং নাগরিকদের কথা সরাসরি শোনার মানসিকতা স্থানীয় পর্যায়ে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
‎
‎জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে রয়েছেন তিনি। দিনের কর্মসূচি শেষে রাতে বোনারপাড়া বাজারে নিজের চেম্বারে রোগী দেখেন লিয়াকত আলী খন্দকার। স্থানীয়দের দাবি, অসচ্ছল রোগীদের অনেককে তিনি বিনা ফি বা কম খরচে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে।
‎
‎সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাজসেবায় অবদানের জন্য লিয়াকত আলী খন্দকারকে ‘মাদার তেরেসা সম্মাননা’ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নে এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন।
‎
‎আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লিয়াকত আলী খন্দকারকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকজনের পক্ষ থেকে তাঁকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি যেসব রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‎
‎এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খন্দকার বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। মানুষের সেবা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। ইউনিয়নবাসী যদি আমাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার চেষ্টা করব।
‎
‎তিনি বলেন, কচুয়া ইউনিয়নের কোনো মানুষ যেন পরিষদে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে না যান, সেটিই আমার চেষ্টা। মানুষের সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিকসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ আরও এগিয়ে নিতে চাই।
‎
‎চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের পাশাপাশি আমি চিকিৎসক হিসেবেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। বিশেষ করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সাধ্যমতো তাঁদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।
‎
‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রার্থীদের অতীতের কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা ততই বাড়বে। তাঁদের প্রত্যাশা, কচুয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা আরও গতিশীল হবে এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
‎
‎স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর কাজ, জনসম্পৃক্ততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে। আর চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকারের বক্তব্যও স্পষ্ট জনগণ তাঁকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দিলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি কচুয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবাকে আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।