লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় নদীভাঙন রোধে বাস্তবায়নাধীন ৩১ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিভিন্ন প্যাকেজে ভাগ হয়ে একাধিক কোম্পানি এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে একটি প্যাকেজের দায়িত্বে থাকা বি জে কোম্পানির কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা যায়, সম্প্রতি বি জে কোম্পানির বেড়িবাঁধের কাজে নিয়োজিত কিছু অসাধু ইট ব্যবসায়ী চুক্তি অনুযায়ী এক নম্বর ইটের খোয়া সরবরাহ করার কথা থাকলেও গোপনে কিছু নিম্নমানের ইটের খোয়া সাইটে ফেলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা তৎক্ষণাৎ বিষয়টি বি জে কোম্পানিকে অবগত করেন।
এলাকাবাসীর এমন সচেতনতার প্রশংসা করে বি জে কোম্পানি কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যবসায়ী থেকে ইট নেওয়া বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, সাইট থেকে নিম্নমানের ইটের খোয়াগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলে বর্তমানে সম্পূর্ণ ভালো ইটের খোয়া দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলেন বি জে কোম্পানির ম্যানেজার মনির হোসেন-এর সাথে। তিনি বলেন,
“আমরা নদীভাঙন কবলিত মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। পুরো বর্ষা মৌসুমে তাঁরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটান। আমরা বিগত বর্ষার পুরো সিজনে অত্যন্ত যত্নের সাথে কষ্ট করে বেড়িবাঁধের কাজ করেছি, যার ফলে গত বর্ষায় নদীতে কোনো ভাঙন সৃষ্টি হয়নি এবং মানুষ নিরাপদ ছিল। আমাদের এই কাজের মান দেখে সর্বপ্রথম এলাকাবাসী আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাজের ক্ষেত্রে কোনো আপস করি না এবং সামনে আরও ভালো কাজ উপহার দেব। যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি ভবন/ওয়াটার বোর্ড) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প, তাই এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নিয়মিত সাইটে এসে কাজ তদারকি ও দেখাশোনা করছেন। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অর্থাৎ আগামী বছরের আগেই আমাদের বেড়িবাঁধের সম্পূর্ণ কাজ সফলভাবে শেষ হবে।”
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানো উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় এই বেড়িবাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং স্থানীয় জনগণের সতর্ক দৃষ্টির কারণে কাজটি এখন শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথে।







