, ,

মাতারবাড়ী বন্দরের জায়গা ভরাটের বর্জ্য যাচ্ছে কোহেলিয়া নদীতে

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চললেও এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর। বন্দর নির্মাণের জন্য জমি ভরাটে ব্যবহৃত বর্জ্য ও মাটি কোহেলিয়া নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীটি আবারও ভরাট ও দূষণের কবলে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতারবাড়ী এলাকায় বন্দর নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এসব জমি ভরাট ও উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত মাটি, বর্জ্য ও অন্যান্য উপকরণের একটি অংশ কোহেলিয়া নদীর তীর ও নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পলি ও বর্জ্য জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

কোহেলিয়া নদীটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। নদীর পানি ও আশপাশের জলাশয় ব্যবহার করে মাছ ধরা, মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ সম্পদ আহরণসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন স্থানীয় জেলেরা। নদীতে বর্জ্য ও পলিমাটি পড়ায় পানির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাছের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, একসময় কোহেলিয়া নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও নানা উন্নয়নকাজ, নদী ভরাট এবং বর্জ্য ফেলার কারণে মাছের পরিমাণ কমে এসেছে। নদীর পানিতে ময়লা ও বর্জ্য জমে থাকায় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলেদের আয়-রোজগারে।

নদীভরাটের কারণে বর্ষা ও জোয়ারের সময় পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে গেলে নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাতারবাড়ীতে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে উন্নয়নকাজের নামে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হলে দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য দিতে হবে স্থানীয় জনগণকেই। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশগত বিষয়গুলো কঠোরভাবে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতে মাটি, বর্জ্য বা নির্মাণসামগ্রী ফেলার ফলে নদীর তলদেশ দ্রুত ভরাট হতে পারে। এতে পানির প্রবাহ কমে গিয়ে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিল্প ও নির্মাণবর্জ্য পানিতে মিশলে তা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা কোহেলিয়া নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাতারবাড়ীর উন্নয়ন থামানোর প্রশ্ন নেই; বরং উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

তাদের আশঙ্কা, এখনই নদীতে বর্জ্য ও মাটি ফেলা বন্ধ না করা হলে কোহেলিয়া নদীর স্বাভাবিক চরিত্র আরও দ্রুত বদলে যেতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।