ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় সুশীলন বাস্তবায়িত ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন’ প্রকল্পের আওতায় ১১ ও ১২ আগস্ট ২০২৬ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সুশীলন কর্তৃক তালিকাভুক্ত চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক জবাবদিহিতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের যত্ন, শিশুর টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive Parenting) বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বয়স অনুযায়ী মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক শাস্তি পরিহারের বিষয়ে অভিভাবকদের ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারে শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে পরিবার, কমিউনিটি, জনপ্রতিনিধি এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে Parent Education Package প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এসব শিক্ষা ও সহায়ক উপকরণ প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান পরিবারে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য পরিবারের মধ্যেও স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ সজীব রহমান। প্রশিক্ষণটি সঞ্চালনা করেন দৌলতখান উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট অফিসার শাম্মি আক্তার।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশুদের সুস্থ বিকাশ এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা জোরদারে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনকারী চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা নিজ নিজ পরিবার ও কমিউনিটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশু সুরক্ষা, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা গ্রহণে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদারেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিশুর সুস্থ বিকাশ, মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবারে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





