নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ। তাঁর বদলির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্বকালে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্র ও কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএডিসির বিভিন্ন টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব বিস্তার করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামনে রেখে টেন্ডার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং পরে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁঠালিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে শৌলজালিয়া ইউনিয়নে বিএডিসির একাধিক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘আলমগীর’ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তাঁদের দাবি, কাগজে-কলমে অন্য ব্যক্তির নাম থাকলেও বাস্তবে এসব কাজের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ লোকজন যুক্ত থাকতেন। এভাবে সরকারি উন্নয়নকাজে তাঁর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ঠিকাদারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কিংবা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁদের কাজ অন্য ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে করানো হতো। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় তাঁর কার্যক্রম ছিল এবং এসব কাজ দেখভালের জন্য নিজস্ব লোকজন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে কোনো কোনো ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে সম্প্রতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বাগেরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বদলি ঠেকাতে তিনি বিএডিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার কয়েকজন ঠিকাদার বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তাঁদের ভাষ্য, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বদলি হলে সাধারণ ও ছোট ঠিকাদারদের জন্য কাজের পরিবেশ আরও স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
কাঁঠালিয়া উপজেলায় একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাজের তদারকি ও নির্মাণের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকলেও ওই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ বাস্তবায়নের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার জোড়াপোল এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুটির ফাটল রং করে ঢেকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মোস্তাফিজুর রহমানের দায়িত্বকালে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে অনিয়মের অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেসব কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।







