, ,

বাংলাদেশের ডার্ক ইকোনমি অর্থনীতির যে অন্ধকারে রাষ্ট্রের আলো পৌঁছায় না- শহীদ রায়হান

নিউজটি শেয়ার করুন

একটি দেশের অর্থনীতির যে ছবি আমরা দেখি, সেটি আসলে পুরো ছবির একটি অংশ। বাজেট, জিডিপি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং লেনদেন—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র তার অর্থনীতির একটি দৃশ্যমান মানচিত্র তৈরি করে। কিন্তু সেই মানচিত্রের বাইরে আরেকটি অর্থনৈতিক ভূগোল প্রতিদিন বিস্তৃত হচ্ছে। সেখানে শ্রম বিক্রি হয়, পণ্য কেনাবেচা হয়, কর এড়ানো হয়, ঘুষ লেনদেন হয়, সীমান্ত পেরোয় মাদক, মোবাইল ফোনের পর্দায় চলে জুয়া, মানুষের অসহায়ত্বকে পণ্যে পরিণত করে মানবপাচারকারীরা, আর বৈধ ব্যবসার আড়ালে কখনো কখনো অদৃশ্য পথে দেশ ছাড়ে বিপুল অর্থ।

এই অদৃশ্য অর্থনৈতিক জগতকেই broadly বলা হয় Shadow Economy বা Dark Economy।

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। ডার্ক ইকোনমি মানেই অপরাধের অর্থনীতি নয়। একজন রিকশাচালক, ক্ষুদ্র দোকানি, গৃহভিত্তিক শ্রমিক কিংবা অনিবন্ধিত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার আয়ও shadow economy-র অংশ হতে পারে, যদিও তার কর্মকাণ্ড অপরাধ নয়। অন্যদিকে কর ফাঁকি, দুর্নীতি, মাদক, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার, চোরাচালান ও অর্থপাচার হলো illicit economy-র অংশ। এই লেখায় Dark Economy বলতে এই বিস্তৃত ছায়া-ব্যবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে—যেখানে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, অঘোষিত আয় এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

থাইল্যান্ড এই বাস্তবতা বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়না।

IMF-এর ২০১৮ সালের গবেষণায় ১৯৯১–২০১৫ সময়কালের MIMIC পদ্ধতিতে বাংলাদেশের shadow economy-র গড় আকার জিডিপির প্রায় ৩৩.৬ শতাংশ, আর থাইল্যান্ডের প্রায় ৫০.৬ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল। এটি বর্তমান অর্থনীতির পরিমাপ নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক econometric estimate এবং shadow economy মাপার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কিন্তু সংখ্যাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির পাশাপাশি কত বড় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের হিসাবের বাইরে থেকে যায়?

আজকের শ্রমবাজারের তথ্য সেই প্রশ্নকে আরও বাস্তব করে তোলে।

বাংলাদেশের Labour Force Survey 2022 অনুযায়ী প্রায় ছয় কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট কর্মজীবী মানুষের ৮৪.৯ শতাংশ, informal employment-এ যুক্ত। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৬.৬ শতাংশ এবং ১৫–২৭ বছর বয়সী তরুণদের ক্ষেত্রে ৯২.৭ শতাংশ।

থাইল্যান্ডে ২০২৪ সালের Informal Employment Survey অনুযায়ী ২১.১ মিলিয়ন মানুষ, অর্থাৎ কর্মজীবীদের ৫২.৭ শতাংশ, informal employment-এ ছিল। OECD বলছে, থাইল্যান্ডে informality বিশেষ করে কৃষি ও low-skilled services-এ কেন্দ্রীভূত এবং এর সমাধান শুধু enforcement নয়—formalisation-এর সুবিধা বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা, সহজ ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই প্রথম অন্ধকারটি অপরাধ নয়; অপ্রাতিষ্ঠানিকতা।

কিন্তু এই অপ্রাতিষ্ঠানিকতার ছায়া যখন কর ফাঁকি, দুর্নীতি এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়, তখন তার অর্থনৈতিক ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যায়।

২০২৫ সালে CPD-এর গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে কর ফাঁকি ও tax avoidance-এর কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা, যার প্রায় অর্ধেক করপোরেট কর ফাঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সময়ে NBR-এর রাজস্ব সংগ্রহ FY2025-এ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯২,৬২৬ কোটি টাকা কম ছিল।

২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক দেখা যাচ্ছে। FY2025–26-এ বাংলাদেশের tax-to-GDP ratio provisional হিসাবে মাত্র ৬.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষের TIN থাকলেও FY2024–25-এ income-tax return দাখিল করেছিলেন মাত্র প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন।

অর্থাৎ সমস্যা শুধু করের হার নয়; সমস্যা হলো করযোগ্য অর্থনীতির একটি বড় অংশকে শনাক্ত ও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা।

এর পরের স্তরটি আরও গভীর—বাণিজ্যের আড়ালে অর্থের অদৃশ্য যাত্রা।

Trade misinvoicing হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আমদানি বা রপ্তানির invoice-এ পণ্যের প্রকৃত মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম দেখিয়ে সীমান্তের ওপারে অর্থ সরানো, কর ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া কিংবা সম্পদ গোপন করা হয়। Global Financial Integrity-এর বিশ্লেষণে ২০০৯–২০১৮ সময়ে বাংলাদেশে এ ধরনের trade-related value gap-এর গড় পরিমাণ প্রায় ৮.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বছরে অনুমান করা হয়েছিল। তবে এটিকে সরাসরি “বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা” বলা ঠিক হবে না; এটি trade-data mismatch বা misinvoicing-এর একটি statistical estimate।

এখানে অন্ধকারের কৌশলটি অত্যন্ত আধুনিক। পণ্য বৈধ, ব্যবসা বৈধ, ব্যাংকিং channel-ও বৈধ—শুধু invoice-এর সংখ্যাটি সত্য নয়। ফলে অর্থের একটি অংশ কাগজে বাণিজ্য হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যায়।

কিন্তু বাংলাদেশের ডার্ক ইকোনমি এখন আর শুধু কাগজের invoice-এ সীমাবদ্ধ নেই। তার নতুন ঠিকানা মোবাইল ফোনের পর্দা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৩–২৪ সালের Annual Report-এ একটি online gambling network-এর অনুসন্ধানের বিবরণ রয়েছে। সেখানে ৫০টি ব্যবসার নামে পরিচালিত ৫১টি MFS account-এর মাধ্যমে এক বছরে ১,১২২.৫ মিলিয়ন টাকা বা ১১২.২৫ কোটি টাকা gambling proceeds সংগ্রহের তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর পরিচয় ছিল e-commerce, telemedicine, construction supplier, restaurant ও advertising agency-এর মতো বৈধ ব্যবসার নামে। পরে অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন bank account-এ স্থানান্তরিত হয়ে এমন ব্যক্তি ও ব্যবসার কাছে যায়, যাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অর্থের উৎসের সামঞ্জস্য ছিল না; BFIU হুন্ডি/হাওলা নেটওয়ার্কে অর্থ পাচারের সন্দেহের কথাও উল্লেখ করেছে।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন পুরোনো ঘটনা নয়।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে BFIU-এর FY2024–25 report প্রকাশের পর জানা যায়, এক বছরে Suspicious Transaction Report ও Suspicious Activity Report-এর সংখ্যা ৩০,১৯৯, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি। BFIU online gambling, betting, cryptocurrency এবং digital hundi-কে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির channel হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এমনকি ২০২৬ সালের একটি DB তদন্তে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাংলাদেশকেন্দ্রিক online gambling platforms-এ দৈনিক ৭০০–১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত transaction হতে পারে। একই তদন্তে একটি নির্দিষ্ট network-এর ক্ষেত্রে প্রায় ৫ কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন cryptocurrency-তে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এগুলো এখনো তদন্তাধীন law-enforcement estimate; তাই এগুলোকে বাংলাদেশের online gambling market-এর audited turnover হিসেবে দেখা যাবে না।

তবু বিপদের মাত্রাটি বোঝার জন্য সংখ্যাটিই যথেষ্ট।

রাষ্ট্র যখন ২০২৬ সালে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন করে online gambling, betting, MFS, digital wallet, hundi/hawala এবং cryptocurrency-র মাধ্যমে gambling proceeds transfer বা laundering-কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করছে, তখন বোঝা যায়—জুয়া আর নিছক বিনোদনের সমস্যা নয়; এটি financial crime-এরও একটি নতুন frontier।

অন্ধকার অর্থনীতির আরেকটি নির্মম অধ্যায় মাদক।

UNODC-এর ২০২৫ World Drug Report-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৭–২০২১ সময়ে বাংলাদেশ থেকে drug trafficking-related outward illicit financial flows-এর annual estimates ছিল—heroin-এর ক্ষেত্রে ৬১.৯ মিলিয়ন ডলার, methamphetamine বা yaba-র ক্ষেত্রে ১৪০.৩ মিলিয়ন, Phensedyl-এর ক্ষেত্রে ২১৫.৪ মিলিয়ন এবং buprenorphine-এর ক্ষেত্রে ৬৩.১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই চার ধরনের মাদকসংশ্লিষ্ট estimated outward flow-ই বছরে মোট প্রায় ৪৮১ মিলিয়ন ডলার।

এটি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ মাদক বাজারের আকার নয়। এটি drug-trafficking-related illicit financial outflow-এর একটি গবেষণাভিত্তিক estimate। কিন্তু এই সংখ্যার তাৎপর্য অন্য জায়গায়—মাদক কেবল সামাজিক বা স্বাস্থ্যগত সংকট নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি আর্থিক supply chain।

মাদক আসে, বাজার তৈরি হয়, নগদ অর্থ তৈরি হয়, অর্থের মালিকানা বদলায় এবং সেই অর্থকে আবার কোনো না কোনোভাবে বৈধ অর্থনীতির ভেতর ঢোকানো বা দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা হয়।

মানবপাচারের অর্থনীতিও একইভাবে অন্ধকার, তবে এখানে আরও একটি সতর্কতা প্রয়োজন। সব commercial sex মানবপাচার নয়; যৌনকর্ম, sex trafficking এবং forced sexual exploitation আলাদা বিষয়। কিন্তু যখন প্রতারণা, জবরদস্তি, ঋণের ফাঁদ বা শিশুদের শোষণের মাধ্যমে মানুষকে মুনাফার উপকরণে পরিণত করা হয়, তখন সেটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়—একটি সংগঠিত criminal economy।

২০২৪ সালের US Trafficking in Persons Report অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ১,২১০ জন trafficking victim, যার মধ্যে ২১০ জন sex-trafficking victim শনাক্ত করেছিল। অন্যদিকে civil society ও international organisations অন্তত ১০,১৩৫ জন trafficking victim, যার মধ্যে ১,৭৮৪ জন sex-trafficking victim, শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। Report-এ বাংলাদেশে child sex trafficking ব্যাপক থাকার কথাও বলা হয়েছে।

এখানে কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় “sex-trafficking market value” নেই। তাই কোটি কোটি টাকার কোনো অনুমান দাঁড় করানো বৈজ্ঞানিকভাবে দায়িত্বশীল হবে না। কিন্তু অর্থনৈতিক সত্যটি অস্বীকার করার উপায় নেই—মানবপাচারে মানুষের শ্রম, শরীর ও স্বাধীনতাকে অপরাধী চক্র অর্থে রূপান্তর করে।

তখন বাংলাদেশের ডার্ক ইকোনমির একটি ভয়ংকর ত্রিভুজ তৈরি হয়—

স্ক্রিনে জুয়া।
সীমান্তে মাদক।
মানুষের শরীরে শোষণ।

তিনটি আলাদা অপরাধ; কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক চরিত্রে মিল আছে—অস্বচ্ছ লেনদেন, মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তি বা সীমান্তের অপব্যবহার এবং অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা।

এর সঙ্গে যখন ঘুষ ও দুর্নীতি যুক্ত হয়, তখন অন্ধকার আরও গভীর হয়।

Transparency International Bangladesh-এর National Household Survey 2025 অনুযায়ী, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১.৬ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির অভিজ্ঞতা পেয়েছে এবং ৬৩.৬ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৫ সালে ঘুষের আনুমানিক মোট মূল্য ছিল ১২,৬৩৩.২ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির প্রায় ০.২৩ শতাংশ।
ঘুষ তাই শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনীতির transaction cost।

একটি লাইসেন্স পেতে টাকা, একটি ফাইল সরাতে টাকা, একটি অনুমোদন পেতে টাকা, একটি কর-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে টাকা—যখন নিয়মের বিকল্প হয়ে ওঠে অর্থ ও যোগাযোগ, তখন দুর্নীতি নিজেই একটি parallel economy তৈরি করে।

এখানেই থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

থাইল্যান্ডও informality থেকে মুক্ত নয়। কিন্তু OECD-এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, তারা সমস্যাটিকে শুধু “অবৈধ কাজ বন্ধ করো” হিসেবে দেখছে না। সহজ ব্যবসায়িক নিয়ম, সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, formalisation-এর প্রণোদনা এবং stronger enforcement—সবকিছুকে একই নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষা একই।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে formal economy-তে আনতে হলে তাকে অপরাধী বানালে চলবে না। নিবন্ধন সহজ করতে হবে, করব্যবস্থা বোধগম্য করতে হবে, ডিজিটাল হিসাবের সুবিধা দিতে হবে, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে এবং হয়রানি কমাতে হবে।

অন্যদিকে trade misinvoicing, organised gambling, drug trafficking, human trafficking, corruption ও money laundering-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজন সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল—financial intelligence, beneficial ownership transparency, cross-border information exchange, data analytics, asset tracing এবং দ্রুত বিচার।

কারণ আজকের কালো টাকা সবসময় কালো ব্যাগে থাকে না।

তা থাকতে পারে একটি invoice-এ।
একটি MFS account-এ।
একটি crypto wallet-এ।
একটি জমির দলিলে।
একটি কোম্পানির balance sheet-এ।
অথবা কোনো অসহায় মানুষের জীবনের ওপর নির্মিত একটি অপরাধী নেটওয়ার্কে।

বাংলাদেশের ডার্ক ইকোনমির সবচেয়ে বড় বিপদ তাই এর আকার নয়; এর সঙ্গে বৈধ অর্থনীতির ক্রমশ মিশে যাওয়া।

কালো অর্থনীতি আর সাদা অর্থনীতির মধ্যে এখন আর কোনো উঁচু দেয়াল নেই—আছে অসংখ্য দরজা।

একটি বৈধ ব্যবসা tax evade করতে পারে।
একটি বৈধ import invoice অর্থ সরানোর মাধ্যম হতে পারে।
একটি বৈধ MFS account gambling proceeds সংগ্রহ করতে পারে।
একটি বৈধ property transaction অবৈধ অর্থ শোষণ করতে পারে।

তাই ডার্ক ইকোনমির বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে শুধু কালো টাকা উদ্ধার করা নয়। এর অর্থ হলো অর্থের উৎসকে দৃশ্যমান করা।

রাষ্ট্রকে জানতে হবে—টাকা কোথা থেকে এসেছে, কার মালিকানা, কোথায় যাচ্ছে এবং কেন যাচ্ছে।

কারণ একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি শুধু কত টাকা তৈরি হয়, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। বিচার করতে হয় কত টাকা উৎপাদনশীল, কত টাকা করযোগ্য, কত টাকা স্বচ্ছ এবং কত টাকা অপরাধের ছায়ায় চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ডার্ক ইকোনমি কোনো দূরবর্তী অপরাধজগৎ নয়।

এটি আমাদের দৃশ্যমান অর্থনীতিরই ছায়া।

যে বাজারে আমরা যাই, যে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করি, যে পণ্য আমদানি করি, যে বাড়ি বানাই, যে সরকারি সেবা নিই—সেই প্রতিদিনের জীবনের ভেতরেই তার অসংখ্য দরজা।

রাষ্ট্রের কাজ শুধু সেই অন্ধকারে টর্চ জ্বালানো নয়।

রাষ্ট্রকে এমন একটি অর্থনৈতিক সকাল তৈরি করতে হবে, যেখানে আলোয় থাকা অন্ধকারে থাকার চেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং লাভজনক।

সেদিনই ডার্ক ইকোনমি ছোট হবে।

শুধু আইন দিয়ে নয়—
স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি, ন্যায়, জবাবদিহি এবং মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার মাধ্যমে।

লেখক পরিচিতি :
শহীদ রায়হান। চলচ্চিত্র নির্মাতা। লেখক। প্রাবন্ধিক। ব্রান্ড মার্কেটিং স্ট্রাটেজিক প্লানার। কবি।
email : shahidrayhan@gmail.com

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উৎস:

* IMF — Shadow Economies Around the World⁠
* OECD — Economic Surveys: Thailand 2025⁠
* Bangladesh Financial Intelligence Unit — Annual Report 2023–24⁠
* UNODC — World Drug Report 2025 data on Bangladesh⁠
* TIB — National Household Survey 2025⁠
* US State Department — Trafficking in Persons Report: Bangladesh