হিন্দু সমাজে বিবাহ একটি পবিত্র ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন। শুদ্ধ মন্ত্র উচ্চারণ, সাত পাক ঘোরা, মালাবদল এবং সবশেষে সিঁদুরদানের মাধ্যমে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে দীর্ঘজীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতি ও শাস্ত্রের প্রতি আমারও গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সেই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রেখেই আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলতে চাই—বাংলাদেশি হিন্দু সমাজে কি বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের একটি আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন?
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মিঠুন সাহার একটি পোস্ট আমার চোখে পড়ে। সেখানে তিনি লিখেছেন—“সেপারেশন বাদ দিয়ে সনাতন ধর্মে ডিভোর্স জরুরি।”
পোস্টটির নিচে অনেক নেতিবাচক মন্তব্যও চোখে পড়েছে। কেউ লিখেছেন, “আপনি কি গাঁজা খেয়েছেন?” কেউ বলেছেন, “আপনার মাথার সমস্যা আছে।” আবার কেউ বলেছেন, পারিবারিক অভাবের কারণেই নাকি ডিভোর্স হয়। কেউ কেউ আরও ব্যক্তিগত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এমন অনেক মন্তব্যও রয়েছে, যেগুলো আমার লেখার ভাষার বাইরে—তাই সেগুলো এখানে উল্লেখ করলাম না। পাঠকরাই বিষয়টি বুঝে নিতে পারবেন।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো—ডিভোর্সের প্রয়োজনীয়তা কি শুধু বই পড়ে, দূর থেকে কিংবা সামাজিক অবস্থান থেকে বোঝা যায়?
আমার মনে হয়, এর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন, যারা বছরের পর বছর পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়ে চলেছেন।
আমার পরিচিত এমন অনেক নারী-পুরুষ রয়েছেন, যারা একটি অসুস্থ ও অশান্ত দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে আটকে আছেন। তারা সংসারেও শান্তি পাচ্ছেন না, আবার আইনগতভাবে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসারও সহজ পথ পাচ্ছেন না। একদিকে সামাজিক চাপ, অন্যদিকে ধর্মীয় ও পারিবারিক বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে অনেকেই বছরের পর বছর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন।
কখনো পুরুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আবার কখনো নারী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন আরেকজনের সঙ্গে থাকতে চান না, কিন্তু সম্পর্কটি আইনগতভাবে কীভাবে শেষ করবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট পথ নেই। ফলে দুজন মানুষ আলাদা জীবনযাপন করলেও তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতা থেকে যায়।
আমার কাছে মনে হয়, কেউ যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও কোনোভাবেই তার দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না পারেন এবং উভয়ের বা কোনো একজনের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া বাস্তবিকভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে একটি মানবিক ও আইনসম্মত বিবাহবিচ্ছেদের পথ থাকা উচিত।
শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস বা সামাজিক মর্যাদার কথা বলে এমন একজন মানুষের সঙ্গে সারাজীবন একই ছাদের নিচে, একই ঘরে, একই বিছানায় থাকার বাধ্যবাধকতা কি যৌক্তিক—যার প্রতি তার মনের সমস্ত টান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে?
এই প্রশ্নটি কি আমরা একবারও ভেবে দেখব না?
তিথির গল্প
‘তিথি’ ছদ্মনামের একজন নারীকে আমি চিনি। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার সঙ্গে রয়েছে একটি প্রতিবন্ধী সন্তান। বাবার একমাত্র চায়ের দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করে কোনো রকমে তাদের সংসার চলছে। পরিবারটির জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর।
তিথির অভিযোগ, তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত এবং তাকে আর সংসারে ফিরিয়ে নিতে চান না। কিন্তু একই সঙ্গে আইনগতভাবে সম্পর্কেরও কোনো সমাধান করছেন না। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তিথির পক্ষে নিয়মিত কোনো কাজ করাও সম্ভব হয় না। সন্তানের চিকিৎসার পেছনেও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। অথচ তার স্বামীর কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তাও তিনি পান না বলে জানান।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু স্বামীর পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকায় তিনি কার্যকর কোনো সমাধান পাননি বলে তার দাবি। তাদের পক্ষ থেকে তাকে সুখে থাকতে না দেওয়ার হুমকির কথাও তিনি জানিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তিথির মতো একজন অসচ্ছল নারীর পক্ষে দীর্ঘদিন মামলা চালানোর খরচ বহন করাও কঠিন।
এখন প্রশ্ন হলো—এই নারী কোথায় যাবেন? তিনি কী করবেন?
আমরা খুব সহজেই বলতে পারি, “মামলা করুন।” কিন্তু মামলা করার অর্থ, সময়, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, মানসিক শক্তি এবং নিরাপত্তা—এসব কি আমরা বিবেচনা করি?
একজন নারী যদি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একসময় বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এরপর আর স্বামীর ঘরে ফিরতে না চান, তাহলে তাকে কি সারাজীবন এমন একটি বৈবাহিক সম্পর্কের পরিচয় বহন করতেই হবে?
সবুজের গল্প
আমার এক বন্ধু সবুজ ভালোবেসে একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে শুরু হয় অশান্তি। কারও সঙ্গে কারও বনিবনা হচ্ছিল না। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছিল না।
তারপরও তারা সংসারটি টিকিয়ে রাখার জন্য বহুবার বসেছে, আলোচনা করেছে, চেষ্টা করেছে। কারণ হিন্দু সমাজে বিবাহকে ভেঙে ফেলার চিন্তাই অনেকের কাছে অত্যন্ত কঠিন। সবাই চায় সংসারটি টিকে থাকুক।
একপর্যায়ে তাদের একটি কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু সন্তান হওয়ার পরও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মৌলিক সমস্যাগুলো থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর সংসার করার পর তারা আলাদা হয়ে যায়।
কিন্তু এখানেও নতুন প্রশ্ন।
তারা যদি ভবিষ্যতে নিজেদের জীবন নতুনভাবে শুরু করতে চায়, তাহলে আইনগত অবস্থান কী হবে? একজন যদি অন্য কাউকে বিয়ে করেন এবং আগের সম্পর্কের পক্ষ থেকে কোনো আইনি অভিযোগ আসে, তাহলে সেই নতুন বিয়েটিও জটিলতার মধ্যে পড়তে পারে।
তাহলে কি এই দুই মানুষ সারাজীবন এমন একটি সম্পর্কে আবদ্ধ থাকবে, যে সম্পর্ক বাস্তবে আর নেই?
আমরা কি তাদের শুধু গালাগালি করব?
বলব—“তোমাদের বিয়ে ঠিকভাবে হয়নি”, “তোমাদের দোষ”, “সংসার ভাঙা যাবে না”?
কিন্তু যদি একই ঘটনা আমাদের নিজের জীবনে ঘটে? যদি আপনার নিজের বিয়ে সব ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি মেনে হয়, তারপরও যদি সেই দাম্পত্য জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে—তখন আপনি কী করবেন?
কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারেন, “আমার জীবনে এমন কিছু কখনো ঘটবে না”?
ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সংস্কারের কথা বলা যায়
আমি আবারও বলছি—আমি হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি, বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে অসম্মান করে ডিভোর্সের কথা বলছি না।
বরং আমার প্রশ্ন হলো, মানুষের বাস্তব জীবনের অসহনীয় পরিস্থিতির জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কি একটি মানবিক ও আইনগত সমাধান তৈরি করা যায় না?
সংসার ভাঙা কারও প্রথম পছন্দ নয়। একটি পরিবার তৈরি করতে মানুষ যতটা সময়, শ্রম, ভালোবাসা ও স্বপ্ন ব্যয় করে, তা ভেঙে ফেলতে কেউ সহজে চায় না।
কিন্তু যখন বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয় না, যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস শেষ হয়ে যায়, যখন একই ছাদের নিচে বসবাস করাটাই দুই মানুষের জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়—তখন শুধু সম্পর্কের নামটি ধরে রাখার অর্থ কী?
বিবাহের উদ্দেশ্য কি শুধু সম্পর্কটিকে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখা, নাকি মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও বিবাহের উদ্দেশ্যের অংশ?
বাংলাদেশের বর্তমান আইনি বাস্তবতা
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ মূলত বিবাহ নিবন্ধন ও তার দালিলিক প্রমাণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করে; এটি একটি সাধারণ হিন্দু ডিভোর্স আইন নয়।
তবে হিন্দু বিবাহিত নারীর আলাদা বসবাস ও ভরণপোষণের অধিকার নিয়ে ১৯৪৬ সালের Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act রয়েছে। অর্থাৎ, আলাদা থাকা এবং বিবাহবিচ্ছেদ—দুটি এক বিষয় নয়।
এই বাস্তবতার কারণেই বাংলাদেশে হিন্দু নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার নিয়ে একাধিকবার আইনি প্রশ্ন আদালতে উঠেছে।
২০১৫ সালে অর্পিতা দাস বাংলাদেশে হিন্দু নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। মামলাটির নম্বর ছিল Writ Petition No. 511 of 2015। হাইকোর্ট প্রথমে Rule Nisi জারি করে জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাকে স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মামলাটি মূল সাংবিধানিক প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়েই নিষ্পত্তি করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, স্বামী অর্পিতাকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন এবং তার হলফনামায় তা স্বীকারও করেছিলেন। ফলে ওই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য সাধারণ ডিভোর্স আইন চালু হয়নি।
এরপর ২০২৩ সালে Ain o Salish Kendra (ASK), BLAST, Naripokkho, Bangladesh Mahila Parishad, Manusher Jonno Foundationসহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি হিন্দু নারীর বিবাহবিচ্ছেদ, বিবাহ নিবন্ধন, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দত্তক এবং উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।
২০২৩ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট সরকারকে Rule জারি করে জানতে চেয়েছিলেন, হিন্দু নারীদের এসব অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। তবে Rule জারি হওয়া মানেই আদালত ডিভোর্সের অধিকার আইন হিসেবে কার্যকর করে দিয়েছেন—এমন নয়।
অর্থাৎ, আজকের বাস্তবতায় বিষয়টি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও সামাজিক আলোচনার জায়গায় রয়েছে।
আমরা কি সমাধানের কথা ভাবব না?
আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। আমি কোনো পরিবার ভাঙার পক্ষেও কথা বলছি না।
বরং আমি চাই—যে পরিবারকে বাঁচানো সম্ভব, সেই পরিবার অবশ্যই বাঁচুক। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে পারিবারিকভাবে, সামাজিকভাবে এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হোক।
কিন্তু যেখানে বহু বছর ধরে কোনো সমাধান হচ্ছে না, যেখানে সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা নেই, পারস্পরিক শ্রদ্ধা নেই, নিরাপত্তা নেই, কিংবা নির্যাতন ও অসহনীয় মানসিক চাপ রয়েছে—সেখানে একজন মানুষকে সারাজীবন একটি অকার্যকর বৈবাহিক সম্পর্কে আটকে রাখার পরিবর্তে আইনসম্মত, সুশৃঙ্খল ও মানবিক বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ থাকা উচিত কি না—সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
ডিভোর্স মানেই পরিবার ধ্বংস নয়। অনেক সময় একটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন শুরু করার জন্য একটি অসুস্থ সম্পর্কের আইনগত সমাপ্তিও প্রয়োজন হতে পারে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে হিন্দু বিবাহের জন্য আইনগত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতাও আলাদা নয়—এখানেও মানুষ আছে, সম্পর্ক আছে, দাম্পত্য সংকট আছে, নির্যাতনের ঘটনা আছে এবং নতুন করে জীবন শুরু করার প্রয়োজন আছে।
তাই সময় এসেছে আবেগ দিয়ে নয়, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, সংবিধানের মৌলিক অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা—সবকিছুকে সামনে রেখে বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে আলোচনা করার।
আমার প্রশ্ন খুব সাধারণ—
একজন মানুষ যদি সত্যিই আর একটি দাম্পত্য সম্পর্কে থাকতে না চান, বহুবার চেষ্টা করেও যদি সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক না হয়, তাহলে কি তার সামনে সারাজীবন কেবল অসহায়ভাবে পড়ে থাকার পথই থাকবে?
নাকি ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই তার জন্য একটি মানবিক, আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ পথ তৈরি করা উচিত?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আইনজীবীদের নয়, শুধু ধর্মীয় নেতাদের নয়, শুধু রাজনীতিবিদদেরও নয়।
এই প্রশ্ন আমাদের সবার।
কারণ বিবাহ মানুষের জন্য—মানুষ বিবাহের জন্য নয়।
—
অমিতাভ চৌধুরী
সংবাদকর্মী, কবি ও লেখক
কেশবপুর, যশোর।






