, ,

প্রার্থী পরিবর্তনে যাদের নাম আসতে পারে

নিউজটি শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী মাঠে প্রচারণায় থাকলেও প্রাথমিক মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল এখনো বিভক্ত। অনেক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে, আর সুযোগ নিচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলো।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা অ্যাডভোটেক মোহাম্মদ আলী কর্মী-সমর্থকরা। এ আসনে নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ মোহাম্মদ আলীকে প্রার্থী চান। তিনি ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক নেতা। আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম। এদিকে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন  বিগত বছরগুলোয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, দলের সাংগঠনিক তৎপরতা কিংবা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কাজ করেছেন। প্রার্থিতা বদল করে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সেখানে সমাবেশসহ বিক্ষোভ হয়েছে। এলাকাবাসী মোহাম্মদ আলীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসনভিত্তিক কোন্দলের সঠিক কারণ, প্রার্থীদের দুর্বলতা, মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে কাজ করছে দলের একটি টিম। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও ঐক্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে বঞ্চিতদের পর্যায়ক্রমে ডেকে বোঝানো হচ্ছে। তারা আশা করছেন, দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে। এসব আসনের মনোনয়নবঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সম্ভাব্য একক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রার্থীর অবস্থান ও জনপ্রিয়তা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। যারা জরিপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা বিএনপির হাইকমান্ডকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন। যে কারণে এই বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিতদের একাধিক নেতা জানান, তারা প্রতিদিনই মাঠে থাকছেন, ধানের শীষের প্রচারণা করছেন। এতে সব পক্ষেরই অর্থ ব্যয়সহ অনেক কিছু করতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন এমন প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, বিএনপির বিরোধের সুযোগ নিচ্ছেন অন্য দলের প্রার্থীরা। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া জরুরি। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দল আগেই বলেছে, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, সম্ভাব্য তালিকা। কোনো এলাকায় পরিবর্তন দরকার মনে করলে, অবশ্যই তা করা হবে। সবকিছু বিশ্লেষণ করেই তালিকা করা হয়।

তিনি বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কারণ, অনেক জায়গায়ই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য দু-তিনজন করে নেতা আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ মিটিয়ে নিচ্ছি।

যাদের নাম আসতে পারে

জানা যায়, যেসব আসনে এখনো বিরোধ মেটেনি, সেসব আসনের বেশকিছু ঘোষিত প্রার্থীর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দুর্বল। অপরদিকে মনোনয়নবঞ্চিতরা স্থানীয়ভাবে কিছুটা শক্ত অবস্থানে। অনেকের জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা অ্যাডভোটেক মোহাম্মদ আলী কর্মী-সমর্থকরা। এ আসনে নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ মোহাম্মদ আলীকে প্রার্থী চান। তিনি ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক নেতা। আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন তিনি গত দুই বার নির্বাচন করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

চাঁদপুর-২ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদার সমর্থকরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

কুষ্টিয়া-১ আসনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শরিফ উদ্দিন জুয়েলের সমর্থকরাও মানববন্ধন, গণমিছিল ও সমাবেশ করেছেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিকে। এ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী মনোনয়ন চাইছেন। শেখ সাদী স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসাবে পরিচিত। এখানে মনোনয়নে পরিবর্তন না হলে অঘটন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাবেক সংসদ-সদস্য মুশফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসনে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কবির আহমদ ভুঁইয়ার পক্ষে দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করছেন।

নরসিংদী-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী পরিবর্তন চায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ। এ আসনে তারা ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলকে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাইছেন। তার অনুসারীরা বলছেন, ১৭ বছর মামলা-হামলায় জর্জরিত ছিলেন তারা।

বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মশাল মিছিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেও। সেখানে মনোনয়নবঞ্চিত সব প্রার্থী একট্টা হয়েছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনকে প্রার্থী হিসাবে চান।

পরিবর্তন হতে পারে যেসব আসনে :-

ঢাকা-৫, ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-১, জামালপুর-২, সুনামগঞ্জ-১, চাঁদপুর-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), মাগুরা-২, কুষ্টিয়া-৪, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা উপজেলা), সিরাজগঞ্জ-৩, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া), চট্টগ্রাম-২, ৪, ১২, ১৩ ও ১৬, ফেনী-২, গাইবান্ধা-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, দিনাজপুর-১, ২ ও ৪; নরসিংদী-৪, সাতক্ষীরা-২ ও ৩; নাটোর-১, নীলফামারী-৪; কুষ্টিয়া ২ ও ৩; বান্দরবান, শেরপুর-২, হবিগঞ্জ-৪, জয়পুরহাট-১ ও ২; ময়মনসিংহ-৩,৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ–১; কিশোরগঞ্জ-৫; কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১০; কুড়িগ্রাম–১ ও ৩; রাজশাহী-১, ৩ ও ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫; রাজবাড়ী–২; নওগাঁ-১, ৩ ও ৪; পাবনা-৪; এবং মৌলভীবাজার-২ – এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা আছে। জানা যায়, যেসব আসনে এখনো বিরোধ মেটেনি, সেসব আসনের বেশকিছু ঘোষিত প্রার্থীর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দুর্বল। অপরদিকে মনোনয়নবঞ্চিতরা স্থানীয়ভাবে কিছুটা শক্ত অবস্থানে। অনেকের জনপ্রিয়তাও রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল-১ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।