
মোঃ সেলিম উদ্দিন
জামালপুর প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (নায়েব) মো: আইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জমির অনলাইন খারিজ (নামজারি) এবং ভূমির উন্নয়ন কর (দাখিলা) দেওয়ার নামে ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ পকেটে পুরছেন এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী কৃষক মো: আব্দুর রহিম এবং এম এ মালেক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্যামেরার সামনে এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত মাত্র ১,১০০ টাকায় জমির অনলাইন খারিজ করার কথা থাকলেও কৃষক আব্দুর রহিম ও এম এ মালেকের কাছ থেকে কৌশলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন নায়েব আইনুদ্দিন। এই ঘটনার কিছুদিন পর কৃষকরা ভূমির কর পরিশোধ ও সরকারি দাখিলা রশিদ আনতে গেলে তাদের কাছে আবারও ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা সেই টাকাও পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি রশিদে দেখা যায়, প্রকৃত কর পরিশোধের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৯২ টাকা। অর্থাৎ দুটি সাধারণ সেবার নামেই ওই কর্মকর্তার পকেটে গেছে নির্ধারিত ফির চেয়ে হাজার হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমরা গরীব মানুষ, কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে সংসার চালাই। নায়েব সাহেব আমাদের জিম্মি করে দুই দফায় ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সরকারি ফি কত তা আমাদের স্পষ্ট করে বলেননি। রশিদ হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারি আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।”
আরেক ভুক্তভোগী এম এ মালেক বলেন, “চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে কোনো সাধারণ কৃষক হয়রানি ছাড়া সেবা পান না। নায়েব আইনুদ্দিনের কাছে টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘুষের টাকা ফেরত চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, এই অফিসে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা প্রতিনিয়ত এভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নায়েব মো: আইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জামালপুর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।







