, ,

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইন্তেকাল

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় তিন দফা জানাজা, গোপালগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিচারাঙ্গনের প্রবীণ আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান আর নেই। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তান, স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান ১৯৫৩ সালের ১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম শরীফ আব্দুর রাজ্জাক এবং মা নূরজাহান বেগম। তাঁর রক্তের গ্রুপ ছিল বি পজিটিভ (B+)।
শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের শিক্ষা ও কর্মজীবন ছিল বর্ণাঢ্য। তিনি ১৯৬৮ সালে এসএসসি এবং ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে বিএ (অনার্স), ১৯৭৪ সালে এমএ এবং ১৯৭৯ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। তাঁর অ্যাডভোকেট আইডি নম্বর ছিল ৪৯৩০। পরবর্তীতে তিনি বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচারিক জীবনে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের ২৮ জুলাই ২০১০ তারিখের অতিরিক্ত গেজেটে তাঁকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গেজেটের পৃষ্ঠা ৭৭৭৭-এ প্রকাশিত তালিকায় তাঁর ক্রমিক নম্বর ৪৮৪২। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা এমআইএস নম্বর ০১৩৫০০১০৩৬১।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাঁর পরিচয়ও ছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁর তিন দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায় ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা হবে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বাদ আসর গোপালগঞ্জে পারিবারিক মসজিদ প্রাঙ্গণে।

জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে তাঁর পিতা-মাতার কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হবে।
তাঁর মৃত্যুতে বিচারাঙ্গন, আইনজীবী মহল ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর পরিবার সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।

মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।