ময়মনসিংহ, বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে গবেষণায় মেধাস্বত্ব জালিয়াতি ও প্ল্যাজারিজমের (লেখা চুরি) গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (BAURES)-এর সহযোগী পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে নিয়োগ প্রদান করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। ওই বছরের ৭ আগস্ট বাকৃবির উপাচার্য ও সিন্ডিকেট চেয়ারম্যান বরাবর উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পাপিয়া সারোয়ার নামের একজন এম.এস. শিক্ষার্থী ২০০৭ সালে বাকৃবির উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ থেকে “Phytophthora parasitica causing Catharanthus blight in Mymensingh” শিরোনামে এম.এস. থিসিস সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর গবেষণার উপাত্ত, ছবি ও টেবিল ব্যবহার করে ২০০৯ সালে J. Agrofor. Environ. জার্নালে Phytophthora parasitica causing Catharanthus blight and its biological control শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। উক্ত প্রকাশিত প্রবন্ধের লেখক তালিকায় ড. মো. আলী হোসেনের (M.A. Hossain) নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
থিসিস ও প্রকাশিত প্রবন্ধের অমিল ও জালিয়াতির দাবি:
অভিযোগকারীদের দাবি, মূল শিক্ষার্থীর এম.এস. থিসিসের সাথে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের উপাত্ত ও চিত্রের হুবহু মিল রয়েছে। অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে Plate 1, Plate 2a, Plate 2b, Plate 3, Plate 4 Ges Table 1- -এর অসংগতি ও হুবহু ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
মূল থিসিসে ‘নয়নতারা’ ( Catharanthus) গাছের ব্লাইট রোগের উপসর্গ, রোগজীবাণু শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগারের ফলাফল ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ড. আলী হোসেনের গবেষণাপত্রে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, মূল গবেষক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়কদের কোনো অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে এসব উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও, তা না করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসীন করা এবং পরবর্তীতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে পদায়ন করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন শিক্ষকমহল দ্রুত এই গবেষণা জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।







