, ,

রাজুর পাশে দাঁড়ান, শাস্তি নয়—সংশোধনের সুযোগ দিন

নিউজটি শেয়ার করুন

কিছু জীবন আছে, যাদের গল্প শুনলে চোখ ভিজে আসে, বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। যে বয়সে একটি শিশুর বই-খাতা নিয়ে পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই রাজুকে কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে জীবনের কঠিন দায়িত্ব। নিজের লেখাপড়া, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা, প্রতিবন্ধী মা ও বৃদ্ধ নানির ভরণপোষণ—সবকিছু সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছে সে।

লেখক স্বপ্নীল স্বপ্নের আবেগঘন লেখায় উঠে এসেছে রাজুর জীবনের এমনই এক মানবিক চিত্র। তিনি লিখেছেন, রাজুকে তিনি নিজের সন্তানের মতো দেখেন। কারণ, রাজু তাঁর সন্তানেরই বয়সী, এমনকি একই সঙ্গে পড়াশোনাও করে। কাছ থেকে দেখেছেন ছেলেটির জীবনসংগ্রাম, ভদ্রতা ও দায়িত্ববোধ। যে বয়সে ভুল পথে পা বাড়ানোর আশঙ্কা থাকে, সেই বয়সে রাজু পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে—এটিও কম বড় বিষয় নয়।

মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে, বিশেষ করে কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে থাকা একজন কিশোর। রাজুর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সে অনুতপ্ত হয়ে ভিডিওটি মুছে দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তাই প্রতিশোধ কিংবা বিদ্বেষ নয়, বরং সত্যতা যাচাই, মানবিকতা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই হতে পারে দায়িত্বশীল সমাজের পরিচয়।

একটি ভুলের কারণে একটি সংগ্রামী কিশোরের ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। তারও স্বপ্ন আছে, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা আছে, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব আছে। তার পাশে যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাতে সমাজের ক্ষতি নয়; বরং একটি পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।

রাজুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি নষ্ট করে দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখক। তাঁর প্রশ্ন—অসহায় এই ছেলেটির পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলা কি আমাদের বিবেকের পরিচয়?