, ,

রাজউক ইমারত পরিদর্শক অমিত হাসান এর যোগসাজশে অনিয়ম করে ভবন নির্মাণের ছড়াছড়ি

নিউজটি শেয়ার করুন

অনুসন্ধান পর্ব – ০১

আধুনিক শহর বিনির্মাণের লক্ষ্যে অনুমোদনহীন ও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত অবৈধভাবে গড়ে তোলা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান জরিমানা সহ নানা ধরনের আইনি ব্যবস্থা চলমান রেখেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

কিন্তু রাজউকের নিয়মনীতি অমান্য করে নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী অসাধু কর্মকর্তারা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের সুযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। বিল্ডিং কোড বিধিনিষেধ অমান্য করা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক কতৃপক্ষের চলমান উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নানা তালবাহানা দেখিয়ে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করতে সুবিধা দিয়ে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডগাইর ও নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল নিয়ে গঠিত রাজউক এর সাব জোন – ৬/২। এই জোনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শকরা রাতারাতি হয়ে যাচ্ছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বা বলা যায় আলাদিনের চেরাগ পাওয়া। রাজধানীর মাতুয়াইল (আংশিক) ও সিদ্ধিরগঞ্জ (আংশিক) মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান যিনি অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের সুযোগ দিয়ে ভবনের আয়তন বুঝে এবং ভবনের উচ্চতা গুনে গুনে ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভবন নির্মাণ শেষ হয়ে গেলেও তার হাত থেকে বাঁচতে পারেন না ভবন মালিকরা নানা অনিয়ম তুলে ধরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। নির্মাণাধীন ভবন মালিকদের অভিযোগ আমরা পূর্বে এই মৌজায় রাজউক ইমারত পরিদর্শক দেখেছি তারা দায়িত্বরত অবস্থায় আমাদের এতো হয়রানি করেনি। বর্তমান ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান নানা তাল বাহানা ও উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে ভবনের উচ্চতা দেখে অর্থের পরিমাণ ঠিক করেন।

অভিযোগ রয়েছে ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান মাতুয়াইল ও শিমরাইল মৌজার দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের সুযোগ দিয়ে খুব ঠান্ডা মাথায় হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। ভবন মালিকদের অভিযোগ ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান ভবন পরিদর্শনে এসে নানা তালবাহানা দেখিয়ে নকশা নিয়ে অফিসে দেখা করতে বলেন। অফিসে দেখা করার পর তিনি নোটিশ ও উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে বসেন উপায় না পেয়ে তার চাহিদা পূরণ করতে হয়। ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান এর দায়িত্বরত মৌজায় বেশ কয়েকটি স্থানে রাজউক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিতিতে অনিয়ম ও বিধিনিষেধ অমান্য করা নির্মাণাধীন ভবনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়েছে অভিযানে নকশা অমান্য করা নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান এর যোগসাজশে উচ্ছেদকৃত ভবনের কাজ চলমান রয়েছে কোন কোন নির্মাণাধীন ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাজউক নিয়মনীতি অমান্য করা নির্মাণাধীন ভবনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ সহ নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করে দেয়ার পর কিভাবে পূণরায় উচ্ছেদকৃত ভবনের কাজ চলমান রয়েছে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে…..!!!!

জানা যায় গত ২ জুলাই ২০১৮ ইং সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আব্দুস সাত্তার এর সন্তান মোঃ অমিত হাসান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে রাজউক আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনে কোনো সুবিধা না করতে পারলেও বর্তমান মাতুয়াইল মৌজায় দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রকার আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, দায়িত্বরত ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান যেখানে যেখানে অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রাজউক থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন উচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে ভবন নির্মাণ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ভবন নির্মাণ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন থেমে নেই ভবন নির্মাণ কাজ।
এ বিষয়ে রাজউক ইমারত পরিদর্শকদের কাছে জানতে চাইলে পূর্বের ন্যায় সেই চিরচেনা মন্তব্য ভবন মালিকদের সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। ভবন নির্মাণের সুযোগ দিয়ে আমরা কোন প্রকার অর্থ গ্রহণ করিনা আমরা আমাদের দায়িত্বরত মৌজায় অনিয়ম করে নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছি এবং অনিয়ম করা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান এর বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে…