, ,

ইস্টার্ন প্লাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধ, আদালতের আদেশ মানার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইস্টার্ন প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের বহুপণ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ও ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন মার্কেটটির একদল ব্যবসায়ী। তাঁদের অভিযোগ, দোকান মালিক সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি শওকত আলীর নেতৃত্বে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীরা বলেন, ইস্টার্ন প্লাজাকে শুধু মোবাইল ফোনের মার্কেটে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বহু ব্যবসায়ীর জীবিকা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্য এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার দীর্ঘদিনের সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আইনগত বিধিনিষেধ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হচ্ছে না। বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ব্যবসায়ীদের সরিয়ে সেখানে শুধু মোবাইল ফোনের দোকান চালুর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি শওকত আলী কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন প্লাজা ঢাকার একটি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী শপিং কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠার সময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তলায় বিভিন্ন শ্রেণির পণ্যের ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান বিক্রি করে। ক্রেতারা যাতে একই মার্কেটে এসে এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা পেতে পারেন, সেটিই ছিল এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কেটের প্রথম তলায় কসমেটিকস, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্প, সেলুন, বিউটি পার্লার ও শিশুদের খেলনার দোকান রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় শাড়ি, থান কাপড় ও টেইলার্স এবং তৃতীয় তলায় তৈরি পোশাক, থ্রি-পিস ও শিশুপণ্যের ব্যবসা পরিচালিত হয়। চতুর্থ তলায় জুয়েলারি, জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের দোকান রয়েছে। পঞ্চম তলায় মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস, ঘড়ি ও চশমাসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা চলছে। এ ছাড়া প্রতিটি তলায় রয়েছে ফাস্টফুডের দোকান।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই বহুমুখী ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে ইস্টার্ন প্লাজা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি ও আস্থা অর্জন করেছে। মার্কেটটির এই স্বকীয়তা নষ্ট হলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাধিকবার সরেজমিনে মার্কেট পরিদর্শন করে আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এরপরও সংশ্লিষ্ট মহল তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

তাঁরা বলেন, মার্কেটের পঞ্চম তলায় দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার অন্যান্য ব্যবসায়ীকে সরিয়ে একই ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ মার্কেটের বহুপণ্যভিত্তিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ব্যবসায়ীরা তাঁদের বক্তব্যে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগালের উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। তাঁদের মতে, একটি মার্কেটের ব্যবসায়িক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিকল্পনা, প্রযোজ্য আইন এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত পরিকল্পনা, প্রযোজ্য আইন ও আদালতের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; ইস্টার্ন প্লাজার ঐতিহ্য ও বহুপণ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা; এবং মার্কেটের সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষা করা।

ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যেন তাঁর ক্রয়কৃত দোকানে ব্যবসা পরিচালনার অধিকার হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইস্টার্ন প্লাজার ব্যবসায়িক কাঠামো ও দোকান পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে অনুমোদিত নকশা, প্রযোজ্য আইন এবং আদালতের আদেশের বিষয়গুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।