বিআইডব্লিউটিএ এর একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসেন (পরিচালক) বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি করে সরকারি রাজস্ব হানি করে হাজার , হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একাধিকবার রিপোর্ট হয়েছে। কোটি , কোটি টাকা খরচ করে লন্ডনে করেছে বাড়ি। রাজধানী ঢাকাতে আছে নামে- বেনামে বাড়ি এবং একাধিক প্লট। মাদক সেবী, নারী পিপাসু এই চরিত্রহীন কর্মকর্তা, সাথী আক্তার লাকি নামের গেয়ো, গ্রামের এক সহজ, সরল মেয়েকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে একাধিকবার মেলামেশা করেছে। এখন বিবাহের কথা বলাই লাকিকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। লাকির সাথে ভিডিও কলে কথা বলার সময় লম্পট আরিফকে বেবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়। তাহার ভিডিও ফুটেজ ও গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে গচ্ছিত আছে। শুধু তাই নয় রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় মদের বার এবং হোটেলে মদ খেয়ে নর্তকী নিয়ে ডান্স করতেও দেখা যায় এই আরিফকে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহন শাখার (পরিচালক) আরিফ হোসেন ওরফে আরিফ হাসনাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুজিব বন্দনায় মগ্ন থেকে কাব্য কবিতার মাধ্যমে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা সহ গ্রামের বাড়িতে করেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। কিন্তু ৫ই আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাতারাতি জাতীয়তাবাদী চেতনার জার্সি গায়ে জড়িয়ে নিজেকে জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক হিসেবে জহির করে অতীতের ন্যায় নিজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্রাজ্য বজায় রেখেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আরিফের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগ প্রেমিক বিআইডব্লিউটিতে খুজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ এর একাধিক সূত্র জানা যায়, বিগত চেয়ারম্যানের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে আরিফ হাসনাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির বাদশা বনে যাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ যেন টাকার খনি। এই প্রতিষ্ঠানে যারাই চাকরি করেন তারাই কোটিপতি বনে যান। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে শুরু করে প্রকৌশলী প্রধান, প্রকৌশলী ও পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা যে যেভাবে পারছেন প্রতিষ্ঠানটির রক্ত চুষে খাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলে উন্নয়ন প্রকল্পের শত , শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কোনভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট । দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ এর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন অর্থ সম্পদ উপার্জনের অভিযোগ তদন্ত চলছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে শত , শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
কে এই আরিফ হাসনাত:
পুরো নাম: এ কে এম আরিফ উদ্দিন। পিতা: করিম হাজী, গ্রাম: রায়পুর, থানা: সুজানগর ,জেলা: পাবনা । অসাধু এ কর্মকর্তা অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও পাবনা জেলার সন্তান হিসেবে নিজেকে আরও সুপার পাওয়ার হিসেবে মনে করেন তিনি,এই বক্তব্য বিআইডব্লিউটিএ এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। তথ্যসূত্র, যতটুকু পাওয়া গেছে স্ত্রী স্বামীমা, ছেলে স্বাদ ও মেয়ে আরিন। ছেলে-মেয়ে দুজনেই দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষারত আছে।
দুদকের অনুসন্ধান:
স্মারক নং- ০০.০১.২৬০০.৬০৩.০১.২৩৪.২৩-৩২১৭ এ দুর্নীতি দমন কমিশনের (উপ-পরিচালক) মোঃ হাফিজুল ইসলাম ( অনু ও তদন্ত-২) টিমের পক্ষ থেকে ০৩/০৯/২০২৩ তারিখে পরিচালক (প্রশাসন) বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে এ পত্রে আরিফ হাসনাত যুগ্ম পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এর সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য নিম্ন বর্ণিত রেকর্ড পত্র সংগ্রহ পূর্বক চিঠি প্রদান করে। উক্ত স্মারকের নামের স্থলে লেখা রয়েছে কিন্তু যুগ্ম পরিচালক আরিফ হাসনাত নামক কোন কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএ পাওয়া যায়নি।
দুদকের চাহিদা পত্রে যে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে তা হল বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ পোর্ট হইতে ০১/০১/১৯- ৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সদরঘাট পোর্ট হতে ০১/০১/২০২০ – ৩১/১২/২০২২ তারিখ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক খাতের হিসেবের বিবরণী এছাড়াও আরিফ হাসনাত যুগ্ম পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ এর ব্যক্তিগত নথি, উত্তোলিত বেতন ভাতার বিবরণ (শুরু হইতে জুন/২৩ সময় পর্যন্ত) দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত অফিস আদেশ সমূহ তার নিজ স্ত্রী,সন্তান ,ভাই গনের নামে ব্যবসা/ শেয়ার পরিচালনায় আবেদন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমুদয় রেকর্ড পত্র।
সম্পদের বিবরণী ও খতিয়ান:
অনুসন্ধানকালে জানা গিয়েছে, পরিচালক আরিফ হাসনাত অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দ্বারা ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডে ২২ কোটি টাকা দিয়ে একটি বহুতল বাড়ি ক্রয় করেছেন। বাড়ি নম্বর ৩০১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা ১২০৫ । বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চারটি আলিশান ফ্লাট ক্রয় করে বসবাস করছেন। যার মূল্য কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা । ওই ফ্ল্যাটের মধ্যে সুইমিংপুলও তৈরি করেছেন। ডেকোরেশন করেছেন প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে। ফ্লাট নং- ব্লক সি, রোড নং ১ ,প্লট নং ৫৪, ৫৫, ৫৬ । সূত্রে বলছে, গ্রামের বাড়ি পাবনাতে নাকি ২০০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে আরিফ । এ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধান চলমান। অন্তত পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকে আরিফের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব ব্যাংক হিসেবে কোটি , কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখা হয়েছে। আরিফ আমেরিকা ও কানাডায় দুটি বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি এলোটি না হইয়েও বিআইডব্লিউটিএ এর একটি গাড়ি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছে। এছাড়া তার স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য রয়েছে লেটেস্ট মডেলের আলাদা গাড়ি।
আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ দখল:
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে স্মারক নং-১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১-২৯৫, তারিখ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ । পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত বিষয় ও সূত্রস্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ মশিউর রহমান তালুকদার উপসচিব স্বাক্ষরিত পত্রে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ এর সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে ১৬/০৮/২০২৩ তারিখের ১৬৮ নং স্মারকের মাধ্যমে ১২ টি পদ সৃজনে সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। পদ গুলোর মধ্যে ০২ টি উপপরিচালক (এস্টেট) ০১ টি, উপপরিচালক (আইন) ০১ টি এর পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বেতন ভর্তা প্রদানের জন্য সরকারের বাজেট সহায়তা র উপর নির্ভরশীল । এমন পরিস্থিতিতে পদ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত পরিচালকের সহায়ক পদ হিসাবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ হিসাবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ সৃজন এ অর্থ বিভাগের অসম্মতি জ্ঞাপন করা হয়। আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি জানিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বিআইডব্লিউটিএ কে পত্র নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়টি শাখা ১৫ এপ্রিল ২০২৪ এর স্মারক নং-১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১.১০৩ এ বিআইডব্লিউটি এ সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে ০৩ পদ সৃষ্টিতে সম্মতি জ্ঞাপন সংক্রান্ত একটি পত্র দেন। উক্ত পত্রে অর্থ বিভাগের সূত্র: পত্র নং- ০৭.০০.০০০০.১২৬.০০.০০৮ (অংশ- ১)২২.৭৯ তারিখ- ২১ /০৩/২০২৪ এক পত্রে বিআইডব্লিউটিএ সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য ০৩ (তিন) ক্যাটাগরির ০৩ (তিন) টি পদ পরিচালকের ০১ টি শার্ট লিপি কারের (ব্যক্তিগত সহকারি) ০১ টি এবং অফিস সহকারী ০১ টি , রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১৬/১২/২০২৩ তারিখে অনুরোধ করা হয় । তৎপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ পথ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত পরিচালক পদ এবং পরিচালকের সহায়ক পদ হিসেবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহকারী এবং অফিস সহায়ক পথ সৃজনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে, ল্যান্ড এস্টেট বিভাগের পরিচালক আরিফ হাসনাতের এর নাম রয়েছে এবং পরিচালক হিসেবে তিনি যাবতীয় গাড়ি সুবিধা সহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিচালক পথ সৃজনের কোন সম্মতি নাই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক আরিফ হাসনাতের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি তিনি রিসিভ করেন নাই।







