, ,

ফেনীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত মৌসুমী ফল হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

নিউজটি শেয়ার করুন

শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী: ফেনীর ফলের আড়তগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে কৃত্রিম ভাবে পাকিয়ে বিক্রি হচ্ছে কলা আমি সহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল ।এসব ফল ক্রয় করে খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ।
বিশেষ করে ফেনী ষ্টেশন রোডসহ মহিপালের আড়ত গুলোতে রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে কাঁচা কলা আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল পাকানো হয় মাত্র কয়েক ঘন্টায়।আর এই বিষাক্ত ফল কিনছে মানুষ। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। চিকিৎসকরা বলেছেন, কৃত্রিম ভাবে পাকানো এসব মৌসুমী ফল জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিয়মিত কয়েক মাস রাসায়নিক মিশ্রিত এসব ফল খেলে পেটের মারাত্মক রোগ সহ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ফেনী ষ্টেশন রোডস্থ কলার আড়তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানায়, রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পাকানো কলার রং চকচকে হয়। সহজে ক্রেতা আকৃষ্ট হয়। বেশি দামে বিক্রি করা যায়।পাকাতে সময় লাগে কম।তাই ব্যবসায়ীরা এ পদ্ধতিতে কলা পাকিয়ে বিক্রি করে।এ কলা অনেকের কাছেই “কেরামতির কাঁচা কলা” হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ষ্টেশন রোডসহ মহিপালে প্রায় ৫০ টি ফলের আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন মৌসুমী ফল আনে আড়তদাররা। অল্প সময়ের মধ্যে পাকাতে অনেক আড়তদার রাসায়নিক মিশ্রিত পানিতে মৌসুমী ফল বিশেষ করে কলা ও আম ডুবিয়ে অথবা আড়তের দরজা বন্ধ করে রাসায়নিক কার্বাইড মিশ্রিত এক প্রকারের ধোঁয়া ব্যবহার করে। এতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে কলা আম বা কাঁঠাল পেকে যায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে রিকসা-ভ্যানে করে বাজারে-বাজারে বিক্রি করে।
ফেনী বারাহিপুরের ব্যবসায়ী আশিক জানান, কয়েক দিন আগে এক ডজন পাকা কলা নিয়ে বাসায় যাই।পরে দেখি কলাগুলোর ভিতরে কাঁচা।
ফেনী শহরের বাসিন্দা এডভোকেট ওসমান বলেন, আড়তগুলোতে ভোরে ট্রাক থেকে কাঁচা কলা আমসহ বিভিন্ন ফল নামিয়ে রাখা হয়। সকাল ৭/৮ টার দিকে কর্মচারীরা এসে ফলগুলো রাসায়নিক মিশ্রিত পানিতে ডুবায়। অনেক সময় স্প্রের মাধ্যমেও রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়। পরে বিকালে ফলগুলো হলুদ হয়।
ফেনী জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ সায়মা হাবিব বলেন, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল খেলে মানুষের কিডনি, লিভার ও হৃদ যন্ত্র ক্ষতি গ্রস্থ হয়।পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মারা যায়।
যোগাযোগ করা হলে ফেনী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়,,কলা আম বা কাঁঠাল পাকানোর জন্য রাসায়নিক মেশানোর বিষয়ে অবহিত নই। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ এই আড়তগুলোতে দীর্ঘ দিন থেকে রাসায়নিক মিশ্রিত ফল বিক্রয় করা হয়। এব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের কে হেনস্থার শিকার হতে হয়।