‘সত্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করুন’
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রংপুরের প্রবীণ সরকার অনুমোদিত অস্ত্র (আর্মস) ডিলার ও কর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বাবু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে সরকার অনুমোদিত অস্ত্র ডিলার ও কর আইনজীবী হিসেবে সততা, সুনাম ও আইন মেনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু রেজ্জাকুল ইসলাম তুহিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন আস্থা অর্জন করেন এবং সেই বিশ্বাসের সুযোগ নেন।
আনোয়ার হোসেন বাবুর ভাষ্য অনুযায়ী, বার্ধক্য, অসুস্থতা ও সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একের পর এক অস্ত্রের লাইসেন্স উপস্থাপন করে বৈধ প্রক্রিয়ায় অস্ত্র সংগ্রহ করেন। লাইসেন্সগুলোর বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই শনাক্তকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেগুলো বৈধ বলে আশ্বস্ত করতেন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে ব্যবহৃত একাধিক লাইসেন্স জাল ও অবৈধ ছিল। এ বিষয়ে তার কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। তার অভিযোগ, সুপরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমে তাকে আইনি জটিলতায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাকে দীর্ঘদিন কারাভোগ, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া এবং চরম মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কখনোই কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ হিসেবে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি প্রতারণার শিকার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার একটাই দাবি—সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং আমি ন্যায়বিচার পাই।”
তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং জাল লাইসেন্স ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।






