, ,

কাশিমপুরে অপহরণের আসামী ছাড়াতে না পেরে পুলিশের ওপর যুবদল নেতার চোখরাঙানি!

নিউজটি শেয়ার করুন

‎
‎★ ঘুষ দাবির নাটক সাজিয়ে তুলকালাম
‎★ সরকারি কাজে বাধা ও মিথ্যা অপপ্রচার
‎
‎
‎​গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কাশিমপুর থানায় এক অপহৃত নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় থানার ভেতরেই এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চরম ক্ষোভ ঝেড়েছেন স্থানীয় এক যুবদল নেতা। আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়ে আসামিকে ছাড়াতে না পেরে উল্টো সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির কাল্পনিক নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে কাশিমপুরজুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর কাশিমপুরের গোবিন্দবাড়ী এলাকা থেকে এক পোশাকশ্রমিকের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিবেশী মো. আলিফ। ভুক্তভোগীর মা ২০ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দিলে কাশিমপুর থানা পুলিশ তা মামলা হিসেবে রুজু করে। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃতাকে উদ্ধারসহ আসামি আলিফকে গ্রেপ্তার করেন।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে সেখানেই। খবর পেয়েই থানায় হাজির হন কাশিমপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ। তিনি প্রভাব খাটিয়ে মামলা রুজু না করতে এবং আসামিকে ছেড়ে দিতে এসআই উজ্জ্বলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা কোনো অনৈতিক প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে আসামিকে আদালতে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই যুবদল নেতা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার সামনে প্রকাশ্যে এসআই উজ্জ্বলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছেন যুবদল নেতা হারুন। সেখানে তিনি দাবি করেন, পুলিশ নাকি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে এবং বাদীর অসম্মতিতে মামলা রুজু করেছে।

তবে যুবদল নেতার এই প্রোপাগান্ডা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মামলার বাদী ও অপহৃত কিশোরীর মা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মেয়েকে না পেয়ে তিনি নিজেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এসআই উজ্জ্বলকে উনি কোনো টাকা-পয়সা দেন নি। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে যুবদল নেতা হারুন প্রকাশ্যে পুলিশকে হুমকি ও বাকবিতণ্ডার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ঘুষ দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণও তিনি পেশ করতে ব্যর্থ হন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো স্পর্শকাতর মামলায় আসামিকে রক্ষায় পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি ও বাধা দেওয়া সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ। একজন পেশাদার কর্মকর্তার আইনি দায়িত্বে ব্যাঘাত ঘটাতে যুবদল নেতার এমন প্রকাশ্য আস্ফালনে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে আইনি কাজে বাধাদানকারী যুবদল নেতা হারুনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসআই উজ্জ্বল জানান, অপহৃত নাবালিকাকে উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ শতভাগ আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। আসামি পক্ষ তাদের অপরাধ ঢাকতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তা না পেরে এখন কাল্পনিক গল্প ফাঁদছে।