, ,

অবসরপ্রাপ্ত নাসিং সুপারভাইজারের পেনশন-আনুতোষিক নিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

আনোয়ার হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনের কী হলো? প্রশাসন নীরব কেন?

দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি। অভিযোগকারী: বিনয় দেউরি, প্রায়ত ফ্রানচিলিয়া গমেজের ছেলে ও পরিবারের প্রতিনিধি।

অভিযোগের বিবরণ:

প্রায়ত ফ্রানচিলিয়া গমেজ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি বিভাগের প্রযোজ্য সরকারি চাকরিবিধি অনুসরণ করে চাকরি সম্পন্ন করেন এবং ৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখে অবসরে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অবসরের পর তাঁর আইনানুগ পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ নিষ্পত্তি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। প্রশ্ন হলো—প্রাপ্য অর্থ মঞ্জুর ও নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কর্তৃপক্ষের চিঠি থাকা সত্ত্বেও কেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলো? কোন কর্মকর্তা বা দপ্তরের পর্যায়ে ফাইল আটকে ছিল? কোনো বিধিগত আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল কি? আর অনিয়ম হয়ে থাকলে দায় নির্ধারণ করা হয়েছে কি?

পরিবারের অভিযোগ, প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় ঘুষ দাবির ঘটনাও ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ দাবিসংক্রান্ত অডিও রেকর্ডিং থাকার কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগে অর্থের অঙ্ক নিয়ে ১২ লাখ টাকা এবং ২০ লাখ টাকা দাবির উল্লেখ পাওয়া গেলে, প্রকৃত অঙ্ক, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট ও লেনদেনের তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ এবং একটি ফাঁকা চেক জামানত হিসেবে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

যাঁদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে:

১. ডা. আবুল ফজাল মোহাম্মদ মশিউর রহমান — নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন সিভিল সার্জন: ঘুষ দাবির অভিযোগে তাঁর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া তদন্ত করে দেখা হোক। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হোক।

২. আনোয়ার হোসেন — জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা: তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে তদন্ত হয়ে থাকলে সেই তদন্তের আদেশ, অভিযোগের বিষয়বস্তু, তদন্ত প্রতিবেদন, সুপারিশ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং গৃহীত প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়ে থাকলে তা কোন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে? প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তার নথি কোথায়? আর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে তার কারণ কী? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন।

৩. হাসান চৌধুরী — সুপার: পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ প্রদান ছাড়া কাজ না করার বক্তব্য বা আচরণের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি, যোগাযোগ, দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অভিযোগটি যাচাই করা হোক।

৪. আনাস আকন্দ — অডিটর: পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ দাবি এবং অবসরকালীন পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল কি না, তা নথি, অডিট আপত্তি, ফাইলের গতিবিধি ও প্রাসঙ্গিক যোগাযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হোক।

উল্লিখিত ব্যক্তিদের নাম ও পদবিসহ অভিযোগ উপস্থাপনের অর্থ তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে গেছে—এমন নয়। নিরপেক্ষ তদন্তে প্রত্যেকের ভূমিকা, দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণ করতে হবে।

আনোয়ার হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?

আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে তদন্ত হয়ে থাকলে জনস্বার্থে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন:

– তদন্তটি কে, কবে এবং কোন আদেশে পরিচালনা করেছিলেন?
– তদন্তের পর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল কি? হয়ে থাকলে স্মারক নম্বর ও তারিখ কী?
– প্রতিবেদনে কী পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করা হয়েছিল?
– অভিযোগ প্রমাণিত, আংশিক প্রমাণিত বা প্রমাণিত না হওয়ার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
– প্রতিবেদন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা অন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি?
– ব্যবস্থা নেওয়া না হয়ে থাকলে কেন নেওয়া হয়নি, এবং ফাইলটি বর্তমানে কোন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে?

তদন্ত হয়ে থাকলে প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের নথি কোথায়? কোনো তদন্ত প্রতিবেদন গোপন বা অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকলে তার কারণ কী? যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব প্রশ্নের লিখিত উত্তর চাওয়া হচ্ছে। প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসারে প্রতিবেদন বা তার প্রকাশযোগ্য অংশ সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও মৃত্যুর ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র তদন্তের দাবি:

পরিবারের অভিযোগ, পাওনা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং ঘুষ দাবির ঘটনাগুলো মরহুম ফ্রান্স চিলিয়া গমেজকে মানসিক চাপ ও দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো প্রমাণযোগ্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যথাযথ প্রমাণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তের আগেই কাউকে তাঁর মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ঘোষণা করা হচ্ছে না; বরং অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানানো হচ্ছে।

প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন

১. মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দেওয়ার পরও প্রাপ্য অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব কেন হয়েছিল?

২. সংশ্লিষ্ট ফাইল কোন কোন কর্মকর্তা ও দপ্তরের কাছে কত দিন ছিল?

৩. ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং পরিবারের কাছে থাকা কথিত অডিও রেকর্ডিং যাচাইয়ের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

৪. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী তদন্তের প্রতিবেদন, সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য কেন জানানো হচ্ছে না—যদি সত্যিই এমন প্রতিবেদন থেকে থাকে?

৫. অভিযোগে নাম আসা কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি? তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় অনুসন্ধান হয়েছে কি?

৬. অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মচারীর আইনানুগ পাওনা নিষ্পত্তিতে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে কে?

বিনয় দেউরির পক্ষ থেকে দাবি:

আমি, বিনয় দেউরি, আমার প্রায়ত মা ফ্রানচিলিয়া গমেজের অবসরকালীন পাওনা নিষ্পত্তি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত দাবি করছি। সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র, পেনশন ও আনুতোষিকের ফাইল, ফাইলের গতিবিধি, অডিও রেকর্ডিং, কথিত অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী তদন্তের নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক।

দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি—অভিযোগগুলো গ্রহণ করে তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লিখিতভাবে জানানো হোক। তদন্তে অপরাধ, ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রাপ্য অর্থের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে কেন হয়রানির অভিযোগের মুখে পড়তে হবে? পূর্ববর্তী তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফল কোথায়? অভিযোগের নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কবে? প্রশাসন নীরব কেন?

জনস্বার্থে এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ, নথিভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিষ্পত্তি চাই।