চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৬১ সালে সৈয়দ মোহাম্মদ আউয়ালের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা ফতেহ লোহানী এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার ওবায়েদ-উল-হকের সহকারী হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান অনন্য। ১৯৭২ সালে প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি সর্বাধিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সুপরিচিত।
তাঁর নির্মিত উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—*সংগ্রাম*, *হাঙ্গর নদী গ্রেনেড* ও *মেঘের পরে মেঘ*। সাহিত্যনির্ভর প্রখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম—*দেবদাস*, *শুভদা*, *চন্দ্রনাথ*, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে *শুভা* ও *শাস্তি*, বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস অবলম্বনে * বিরহ ব্যথা* এবং *শিল্পী হাসন রাজা*। এছাড়া তিনি দেশের তিন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী এবং শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।
সাংস্কৃতিক ও পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির চারবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘একুশে পদক’সহ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।
তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১১জানুয়ারী ৭৩ বছর বয়সে চাষি নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন।







