, ,

সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানার উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা,পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিউজটি শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার অসীম চন্দ্র দাস (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও আংশিক বিজয়নগর) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সরাইল থানায় উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসামি গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা তাঁর ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় থানার বাইরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক অবস্থান করছিল। এমপির ভাষ্য থানার বাইরে ৫ থেকে ১০ হাজার সমর্থক রেখে থানায় প্রবেশ করছি। ওসি বলেন, থানায় প্রবেশের মাধ্যমে মব সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।অন্যদিকে, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হয় না। সরাইলকে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার দাঙ্গা নিরসনে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। নিরাপত্তার অভাব থেকেই তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছেন।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমপির অভিযোগ
থানায় উপস্থিত হয়ে রুমিন ফারহানা সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় দাঙ্গা-সংঘাত নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটা, বিভিন্ন মামলার আসামি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন। এ ছাড়া অন্যের বাড়িতে গিয়ে খাবার খাওয়ার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ গুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের প্রমাণ চান ওসি,সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ গুলোর প্রমাণ জানতে চান বলে জানা গেছে।
তিনি রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের অনুসারীদের নিয়ে মব সৃষ্টি এবং প্রশাসনিকভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি থানায় এসেছেন।
ওসির আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে এবং আসামি গ্রেপ্তার না করার জন্য তাঁর ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, ওসি বলেন এগুলো নোট করে রেখেছি । তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। নিরাপত্তা নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা,নিরাপত্তার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি গানম্যান পান না। এ কারণে জনগণই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের সমর্থন ও নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেই তিনি সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় একদিকে সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে থানার বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং তা ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার বিষয়টিও সামনে এসেছে।স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দাঙ্গা নিরসনে পুলিশের ভূমিকা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও ইটভাটা সংক্রান্ত অভিযোগ এবং থানায় মব সৃষ্টির অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। স্থানীয়দের মতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।