, ,

শ্রমিক অস্থিরতার জেরে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তরা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)–এর সনিক বাংলাদেশ লিমিটেডে টানা তিন দিনের শ্রমিক অস্থিরতার পর মালিকপক্ষ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯–এর বিধান অনুসারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
১৬ নভেম্বর সকালে কারখানার একটি অংশের শ্রমিক নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ না দিয়ে মূল ফটকের সামনে সমবেত হন। তারা কিছু দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন, যেগুলোকে মালিকপক্ষ “অন্যায় ও অযৌক্তিক” হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরবর্তীতে আরও শ্রমিক সেখানে যোগ দিলে কারখানা গেটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

১৭ নভেম্বর শ্রমিকদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ আলোচনা করে। আলোচনার প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, “উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে—শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”

১৮ নভেম্বর কারখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশ ওই নির্দেশ অমান্য করে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করতে থাকে। মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শ্রমিকরা বেআইনি উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন—যা বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্রমাগত অচলাবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ একই দিনে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় খুলবে
মালিকপক্ষ জানায়, “যখনই কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হবে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে, তখন পুনরায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারখানা খুলে দেওয়া হবে।”

এদিকে কারখানা বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিকের আয়-জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।