, ,

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পারিবারিক বিরোধ মেটাতে গিয়ে ফুফাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত পলাতক

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ছাতুরপার এলাকায় পারিবারিক বিরোধ মিমাংসা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুর রহমান (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। নিহত আব্দুর রহমান সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মৃত হাজী ইসরাক আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামে নিহতের শ্বশুরবাড়ি ও সমন্ধিক (স্ত্রীর ভাই) মৃত তোতা মিয়ার বাড়িতে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুর রহমান তাঁর এক মেয়েকে সমন্ধিক মৃত তোতা মিয়ার কাতার প্রবাসী ছেলে মুন্না আহমদের সাথে বিয়ে দেন। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের সাথে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। মেয়ে ও জামাতার পরিবারের মধ্যবর্তী এই দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুর রহমান তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান।

সেখানে উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কাতার প্রবাসী মুন্না আহমদের ভাই ওমর ফারুক (২৫) সম্পূর্ণ অতর্কিতভাবে দা দিয়ে তাঁর আপন ফুফা ও তালই আব্দুর রহমানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। আব্দুর রহমানের ডাক-চিৎকারে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থল মৃত তোতা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওমর ফারুকসহ পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার বিকেলে জানান, “ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করার পর তারা মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”