, ,

মিরপুরে বিনিয়োগের নামে আবাসন খাতে শক্তিশালী প্রতারক চক্র

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীর মিরপুরে আবাসন খাত ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চড়া লাভে বিনিয়োগের নামে প্রতারক চক্রের মূল হোতা (জাপান প্রবাসী) মোঃ ইকরামুল হক এর নেতৃত্বে তার আপন ভাই মোঃ রিয়াজুল হাসান (অভি) ওরফে (মিথুন) এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায় বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন অংকের টাকা বিনিয়োগ করে প্রায দ্বিগুণ লাভে চেক ও ফ্ল্যাট মর্গেজ নিয়ে পরবর্তীতে জালিয়াতি, জবরদখল ও ভুয়া মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

০৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ ও মাইশা এম,এস প্রপার্টিস লিমিডেডের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আলফালাক রিয়েল এস্টেটের পরিচালক মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আলফালাক রিয়েল এস্টেটের এমডি এস,এম জাকারিয়া ও মাইশা প্রপার্টিস লিঃ এর এমডি মোঃ হায়দার আলী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাপান প্রবাসী মোঃ ইকরামুল হকের অর্থায়নে তার ভাই মোঃ রিয়াজুল হাসান অভি ওরফে মিথুন মিরপুর ও দারুসসালাম সহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রতারক চক্র পরিচালনা করছেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে আলফালাক রিয়েল এস্টেট আর্থিক সংকটে পড়লে প্রতারক যে একাধিক নাম ব্যবহার করে রেজাউল হাসান ( অভি) ওরফে (মিথুন) ১ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিনিময়ে ৬০ লক্ষ টাকা লাভ দাবি করে ৩টি ব্ল্যাংক চেক এবং মোহাম্মদপুরের একটি প্রজেক্টের ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৪টি ফ্ল্যাট ও ৪টি কার পার্কিং বায়না দলিল হিসেবে মর্গেজ নেয়।
পরবর্তীতে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ ১ কোটি টাকা মূল্যের ১ টি ফ্ল্যাট ও একটি কার পার্কিং সাব রেজিঃ করে দিলে ও ইকরামুলের নির্দেশে ভাই রিয়াজুল হাসান কোম্পানির চেক ও বায়না চুক্তি বাদিল করেন নি।
এ ছাড়া রেজাউল হাসান অভি তার বন্ধু পরিচয় চক্রের আর এক সদস্য কে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ বিগত ০৭ আগস্ট ২০২৩ খ্রিঃ ১ কোটি টাকার চেক দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা বনিয়োগের প্রস্তাব দিয় ৭০ লক্ষ টাকা দলিলে নগদ দেখিয়ে লাভের ২ লক্ষ টাকা চুক্তি পত্রে লিখে রেজিঃ পরে ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পেয়ে সময় নিয়ে অভিও মাজহারুল বিগত ১৬ আগস্ট পুনরায় ৫০ লক্ষ টাকার চেক কোম্পানির নামে দিলে সেখানে ও টাকা না থাকায় বায়না চুক্তি বাতিলের জন্য বার বার তারিখ দিয়ে ঘুরাইতে থাকেকোনো টাকা পরিশোধ না করেই উল্টো আদালতে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি চেয়ে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন জালিয়াত চক্র।
ছিদ্দিকুর রহমান আর ও বলেন একইভাবে মাইশা এম,এস প্রপার্টিসকেও ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে ৯০ লক্ষ টাকার চেক ও ২ টি ফ্ল্যাট মর্গেজ নিয়ে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে প্রতারক চক্রটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রের জালিয়াতির বড় প্রমাণ মিলেছে সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্সের একটি মামলায়, যেখানে ১ লক্ষ টাকার চেকে ৫ সংখ্যা বসিয়ে ৫১ লক্ষ টাকা বানিয়ে মামলা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে সেই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়।
এছাড়া ও কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহরিয়ার, ও মোহাম্মদ আলী, ডেভলপারের ফিরোজ তালুকদার ও খান তালুকদারের বিরুদ্ধে একই কায়দায় ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ঐ চক্রটি।
সম্প্রতি গত ১৯ জুন মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে দুটি দোকান ঘর জবরদখল প্রতারক চক্র নিয়ে উল্টো আলফালাকের এমডির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় তারা। বর্তমানে এই চক্রের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলাগুলো পিবিআই তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ইকরামুল ও রিয়াজুল হাসান অভি এবং মাজহারুল সহ মিরপুর -১, এর রেজাউল আমিন রাজু, মোস্তাফিজুর রহমান (মাসুম), হিটার সুমন, ও চোরাই সিএনজি বেচাকেনার হোতা জহির সহ জড়িত প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে ।
ছিদ্দিকুর রহমান বলেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও অনান্য ব্যবসায়ীদে যাতে এই প্রতারক চক্র প্রতারনার ফাদে না ফেলতে পারে এ জন্য আজকের আমাদের যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করে সতর্কবানি পৌঁছে দিতে চাই।
বর্তমানে এই চক্রের সদস্যদের জন্য আমরা জান মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি মর্মে মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি করেছি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনী বিচার বিভাগের সহায়তা কামনা করছি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রিয়াজুল হাসান অভি ওরফে মিথুনের বক্তব্য জানতে একাধিক বার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে ও তিনি সাড়া দেননি।