স্বদেশবিচিত্র প্রতিবেদক : বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগের অপর নাম হয়ে ওঠে মনিরামপুরের গ্রামীণ জনপদ। টানা বৃষ্টিতে যশোরের এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাঁচা সড়কগুলোতে থাকে হাঁটুসমান কাদা।
স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টিতে সড়ক ও খাল একাকার হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া কিংবা রোগীর হাসপাতালে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সবশেষ সড়ক তালিকা অনুযায়ী, মনিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭৭২টি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের মোট দৈর্ঘ্য এক হাজার ৯০৬ দশমিক ৯১ কিলোমিটার।
এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৫৮৮ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার, আধাপাকা ১৭৯ দশমিক ৮০ কিলোমিটার এবং পাকা মাত্র ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার।
এছাড়া, বিটুমিনাস বা ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট রয়েছে এক হাজার ১১০ কিলোমিটারের বেশি। তবে বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
বিশেষ করে উপজেলার হরিদাসকাটি, চালুয়াহাটি, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, খেদাপাড়া, রাজগঞ্জ, কাশিমনগর, শ্যামকুড়, ভরতপুর, দুর্বাডাঙ্গা, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, হাজিরঘাট, কুলটিয়া, খানপুর, মনোহরপুর, রোহিতা, গোপালপুর, মধুখালী, মুজগুন্নী, কাশিপুর,পাড়ালা, বাটবিলা, পাড়িয়ালী, বালিয়াডাঙ্গা, চিনাটোলা, বাগডাঙ্গা, রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা সড়ক ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক উদ্দীন বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক কাদায় ঢেকে যায়। মোটরসাইকেল দূরের কথা, হেঁটেও চলা যায় না। রোগীকে হাসপাতালে নিতে চরম কষ্ট করতে হয়।’
ঘুঘুদহ গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকালে আমরা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারি না।
শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কাঁচা রাস্তার এই দুর্ভোগ বছরের পর বছর চলছে।’
রঘুনাথপুর গ্রামের অশোক বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরও বর্ষা এলেই সড়কের কাদায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের একটাই দাবি- অন্তত প্রধান কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত পাকা করা হোক।’
মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলার কাঁচা সড়কের পরিমাণ এখনো অনেক বেশি। টানা বৃষ্টিতে এসব সড়কের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো চিহ্নিত করছি। বরাদ্দ পাওয়া সাপক্ষে পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করা হবে।’
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক বলেন, ‘গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো ধাপে ধাপে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
স্বদেশবিচিত্র/এআর







