কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে চরম গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মামলার ভয়ে অনেক কৃষক আত্মগোপনে রয়েছেন, অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া দুই কৃষক আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ন্যায্য দাবীতে সার চাইতে গিয়েই তারা মামলার মুখে পড়েছেন তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, সার বিতরণকালে তাকেসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের ‘মেসার্স আফি সার ঘরে’ সার বিতরণের সময় এ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয় ওই দিন রাতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটিতে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে। গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে আছেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী শিউলী বেগম। তিনি ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী কেবল সার চাইতে গিয়েছিলেন। মামলার পর থেকে তিনি ঘরে ফিরতে পারছেন না, এদিকে জমির ফসল দেখভাল করারও কেউ নেই।”একই মামলায় গ্রেফতার হয়ে আট দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন কৃষক আল আমিন মোল্লা।
তিনি বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, কেবল সারের দাবি জানিয়েছিলাম।” তাঁর স্ত্রী রওশন আরা বেগম জানান, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে গিয়ে তাঁদের প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষক সুরুজ মিয়ার দাবি, তাঁরা সার না পেয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন সত্য, তবে কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত তোলেননি। অযথা মামলায় জড়িয়ে পড়ার চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় কৃষক কলিম উদ্দিন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আতঙ্কে বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক পরিবার ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা অজ্ঞাতনামা আসামিদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “সার বিতরণের সময় উসকানিমূলকভাবে বিক্ষোভের সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে আমাকে ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়।বাধ্য হয়েই ১১ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, মামলাটিতে এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, এরপর আর কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। সিসিটিভি বা ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে যারা নির্দোষ, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।”







