বিআরআই (ব্রি)-র গবেষণায় দেশের চালের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিদর্শন করেন। এই সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে কৃষি মন্ত্রী মোঃ আমিন উর রশিদ এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় সংস্থাটির অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। ব্রি-র গত সাড়ে পাঁচ দশকের গবেষণার ফলে দেশে চালের উৎপাদন চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর-ও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম খান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ব্রি-র মহাপরিচালক ড. মোঃ রফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
চাল উৎপাদন ও গবেষণার সফলতা নিয়ে কৃষি মন্ত্রী জানান, ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদন ছিল ৯.৭৭ মিলিয়ন টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০.৬৩ মিলিয়ন টনে। বর্তমানে দেশে মোট উৎপাদিত চালের ৫৩ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে, ৪০ শতাংশ আমন এবং ৭ শতাংশ আউশ থেকে। ব্রি-র উদ্ভাবিত নতুন জাত ব্যবহারের ফলে কৃষকের ফলন ৪০ শতাংশ এবং আয় ৮৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাত উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণ
ব্রি এ পর্যন্ত উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড মিলিয়ে মোট ১২৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রতিকূলতা সহনশীল জাত: ৪০টি জলবায়ু ঘাতসহনশীল, জিংক সমৃদ্ধ ৭টি, সুগন্ধি ও প্রিমিয়াম মানের ১৪টি এবং রোগ প্রতিরোধী ২টির মতো বিভিন্ন জাত।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: উদ্ভাবিত ২৩টি জাত বিশ্বের ১৪টি দেশে চাষ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ: কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বীজ বপন, রোপণ, আগাছা দমন ও মাড়াইয়ের জন্য ৪৭টি যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠের পোকামাকড় পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ব্যবস্থা এবং ‘স্মার্ট প্রোফাইলিং অ্যাপ’ চালু রয়েছে।
বীজ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য :
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্রি ১৩০টি জাতের ব্রিডার বীজ সংরক্ষণ করেছে এবং ২৩২ টন ব্রিডার বীজ উৎপাদন করেছে, যা কৃষকদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মোট ২৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।
কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে খাদ্য সুরক্ষায় আরও স্বাবলম্বী হবে।







