নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ, প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবি
শিশুদের ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, পাঠদানের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ। সভাপতিত্ব করেন এফএস মোঃ শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ সারাফাতুল্লাহ এমসি। এ ছাড়া জিসি ডাক্তার হাফেজ মাওলানা মোঃ মশিউর ইসলাম, জিসি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও জিসি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পার্বতীপুর উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সভায় অংশ নেন।
সভায় শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, শিশুর প্রাথমিক বয়সে অর্জিত শিক্ষা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ তার ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার চর্চা শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক।
বক্তারা আরও বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
সভায় প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।বক্তারা মনে করেন, রাজস্ব খাতে নেওয়া হলে এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
সভায় চলমান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।







