পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৪৯২ জন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা স্থানান্তরে ব্যাপক দুর্নীতি, খাতা জালিয়াতি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কঠোর চিঠি জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি) থেকে প্রকাশিত এই বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্মারক নং-পসব্য/প্রকা/প্রশা-১(১৫)/২০২২-২৩/১৪৮৬ তারিখ: ১২.০৬.২০২৩ খ্রি. মূলে ৪৯২ (চারশত বিরানব্বই) জন “অফিস সহায়ক” এবং ৭২ (বাহাত্তর) জন “নিরাপত্তা প্রহরী” নিয়োগের লক্ষে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ৩৭২ জন অফিস সহায়ক ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ প্রদান করা হয়।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের স্মারক নং-পসব্য/প্রকা/প্রশা-১(১৫)/২০২২-২৩/৭২৫, তারিখ: ১১.০৫.২০২৩ খ্রি. মূলে নিয়োগ র্কাযক্রম পরিচালনার জন্য ০৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে দুইজন সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক কর্মরত থাকাবস্থায় সত্ত্বেও মো: আলাউদ্দীনকে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে মুল গুরুত্বপূর্ন পদে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। উক্ত নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আনুমানিক ২৫-৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনয়িম বা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগে মো: আলাউদ্দীনকে এ র্কাযক্রমের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ওই নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন তদন্ত প্রতিবেদন দৈনিক ইনকিলাবের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত স্মারক নং-এফআইসিএসডি/২০২১/২০২৫-১৯৬৭, তারিখ: ২৯.১০.২০২৫ খ্রি. মূলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পরিদর্শন প্রতিবেদনটি প্রেরণ করে। উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনে নিয়োগ কার্যক্রমে নিম্নলিখিত অনিয়মসমূহের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যার সারসংক্ষপে নিম্নরূপ:
১. লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতি যেমন: ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার উত্তরপত্রে সকল প্রশ্নের হুবহু একই উত্তর। ২. কতিপয় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে একই ব্যক্তির হাতের লেখা। ৩. তদন্তে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কয়েকজনকে উপস্থিত করানো হলে উত্তরপত্রের লেখা পরীক্ষার্থীদের নিজের নয় মর্মে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। ৪. উক্ত ২৩০টি উত্তরপত্রের সকল প্রশ্নের উত্তরের সাথে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পরবর্তী মাসে প্রকাশিত অগ্রদূত প্রকাশনার “জব সল্যুশন” গাইড বইয়ের উত্তরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ৫. ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য মোতাবেক পরীক্ষার উত্তরপত্র সমূহ সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধায়নের জন্য ট্রাঙ্কের চাবি জিএম মো: আলাউদ্দীন এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। ৬. চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বর্ণিত ২৩০ জন পরীক্ষার্থীকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মর্মে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মুল হোতা সাবেক এমডি ও জিএম আলাউদ্দীন এর পাশাপাশি অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক পরীক্ষার্থীরাও সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর মতো স্পর্শকাতর চাকুরিতে এমন ভয়াবহ জাল জালিয়াতি, ঘুষের লেনদেন, অনৈতিক ও অবৈধ কাজে অংশ নিয়ে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত, যা তদন্তে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত।







