কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে কুমিল্লা ১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন উর রশিদ মজুমদার।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম সদরের শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হল প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হারুন উর রশিদ মজুমদার দাবি করেন, নির্বাচনের দিন ও ভোট গননার পর থেকে জামায়াত শিবির কর্তৃক বিএনপির নেতা,কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর, কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত শিবিরের নগ্ন হামলায় পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৬০ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের কে কুমিল্লা,ফেণী ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সব বিষয়ে যৌথ বাহিনীর নিকট অভিযোগ করে কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।
তিনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারী রাতেই উপজেলার আলকরা, গুণবতী, কনকাপৈত, জগন্নাথ দিঘি ও চিওড়া ইউনিয়নে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নেয়। তারা আমাদের এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। ওই রাতে তারা আলকরা,গুনবতী ও জগন্নাথ ইউনিয় গুলোর কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারে। এসকল বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে বার বার অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং নির্বাচনের দিন উপজেলার দক্ষিণাংশের চারটি ইউনিয়নের সবগুলো ভোটকেন্দ্র জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল করে নেয়। নির্বাচন শুরুর আগেই আমাদের সকল এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বাহির করে দিয়েছে। প্রশাসনের ছত্রছায়া জামায়াত দক্ষিণ অঞ্চলের সকল কেন্দ্র দখল করে দাঁড়ি পাল্লায় সিল মারে। প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাক্ষান করলাম। ফলাফল স্থগিত করে এ আসনে পুনরায় নিবার্চন দাবী করেন এ নেতা।
হারুন অর রশিদ মজুমদার আরও বলেন, ভোট গণনা শেষে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পৌরসভা, শুভপুর ইউনিয়ন, বাতিসা, কনকাপৈত, চিওড়া, জগন্নাথ দিঘি, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এছাড়াও আলকরা,গুণবতী, জগন্নাথ দিঘি ইউনিয়নে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেন,পৌরসভা বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাশী বলেন ভোট গণনা শেষে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সির ও বিএনপি নেতা মফিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে, পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি দিদার ও পৌরসভা মহিলা দলের নেত্রী তাসলিমা বাড়িতে হামলার চালায়, পৌরসভা মহিলা দলের নেত্রী শিখা, শান্ত উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী পুতুলকে মেরে গুরুতর আহত করে। পৌর বিএনপি নেতা এনামের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এভাবে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাংচুরের বিষয়ে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইন্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী সহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







