, ,

দিনাজপুরে সরকারি সারগুদাম থেকে ৩২৭ টন সার বিক্রির অভিযোগ, স্টোরকিপার আটক

নিউজটি শেয়ার করুন

অনুমোদন ছাড়াই সরকারি সার বিক্রির অভিযোগে তদন্তে পুলিশ, জড়িতদের খোঁজে অভিযান
দিনাজপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি সারগুদাম থেকে অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় অবস্থিত বিএডিসির সারগুদাম থেকে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ৩২৭ মেট্রিক টন সার অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিক্রি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গুদামের দায়িত্বে থাকা স্টোরকিপার মো. আকতারুল ইসলাম (৩৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযোগের ভিত্তিতে নশিপুর এলাকায় অবস্থিত সরকারি সারগুদামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রাথমিকভাবে সার বিক্রির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সরকারি সার বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে বিপুল পরিমাণ সার গুদাম থেকে বের করা হয়েছে। আটক স্টোরকিপার মো. আকতারুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে অনুমোদন ছাড়াই সার বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ সার কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, কীভাবে গুদাম থেকে বের করা হয়েছে, বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে গুদামের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, সার ব্যবসায়ী বা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সার কৃষকের কাছে নির্ধারিত ও ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের একটি নির্দিষ্ট বিতরণ ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সরকারি গুদাম থেকে সার বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা কৃষিখাতের জন্য গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃষকদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার বিক্রির ঘটনায় শুধু একজন কর্মচারীর ভূমিকা নয়, পুরো সরবরাহ ও গুদাম ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, গুদামের মজুত হিসাব, সার গ্রহণ ও বিতরণের রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে সার বিক্রির প্রকৃত পরিমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।