, ,

“আটোয়ারী উপজেলায় শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি”

নিউজটি শেয়ার করুন

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। এতে আটোয়ারী উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু গ্রামে ভুট্টা, মরিচ, শসা সহ শাকসবজি তছনছ হয়ে গেছে।
সর্দারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায়, শিলা বৃষ্টির প্রভাবে টিনের ঘরগুলোর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোহিদুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাবে গাছের ডালপালা ভেঙ্গে টিনের ঘরগুলোতে পড়লে অনেক টিন নষ্ট হয়ে ঘরের ভিতর বৃষ্টির পানি পড়ছে। স্কুল ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের পড়েছিল। এরমধ্যে আবার বেশি দামে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনে ভুট্টা, মরিচ ও শাকসবজির চাষ করেছিল। কিন্তু কালবৈশাখীর কারণে সেই ফসলও মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের বারআউলিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি এনজিওর কাছে ঋন নিয়ে ১০০ শতক মরিচ ও ৫০ শতক ভূট্টা আবাদ করেছিলাম রাতে ছোট ও মাঝারি সাইজের শিলাবৃষ্টিতে ভূট্টা ও মরিচের ক্ষেত মাটিতে শুয়ে পড়েছে। সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে, এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঝলজলি গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু হয়, আমার শষা ক্ষেতের মাচা ভেংগে কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। আমার বাড়ির টিনের চালা ভেদ করে শিলা ঘরের ভিতর প্রবেশ করে।
আটোয়ারী উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল মরিচ। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে শিলাবৃষ্টির তান্ডবে তোড়িয়া, মির্জাপুর, বলরামপুর ও ধামোর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ভূট্টা = ৪৬৫ হেক্টর, মরিচ= ৩৭৫ হেক্টর, গম= ২৬৪ হেক্টর, সবজি= ৯৫ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন পেয়াজ= ১০ হেক্টর জমির আবাদ সম্পূর্নরুপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করে কৃষকদের আর্থিক অনুদানের আশ্বস্ত করেছেন।।