, ,

দক্ষতা নিয়ে বিদেশ গেলে রেমিট্যান্স বাড়বে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত

নিউজটি শেয়ার করুন

‘দক্ষতা নিয়ে যাব বিদেশ, রেমিট্যান্সে গর্বিত হবে স্বদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসন ও অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
​উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওকাপ-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জিত কুমার নাথ-এর সঞ্চালনায়। সভার সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ,
অতিথি হিসেবে হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল মাহমুদ এবং সদর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব জয়নাল আবেদীন।
​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে প্রবাসীদের জীবন সবসময় মসৃণ হয় না। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৪৫ জন অভিবাসী কর্মীর মৃতদেহ দেশে এসেছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ভাষাগত দক্ষতা ও কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
​বক্তারা আরও জানান, ওকাপ-এর জরিপ অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাতেই ৮২ জন সাব-এজেন্ট বা ট্রাভেল এজেন্সি সক্রিয় রয়েছে। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ও তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সঠিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সভায় দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
​অনুষ্ঠানে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ, তথ্য আপা ইয়াসমিন আক্তার এবং উলচাপাড়ার সাব-এজেন্ট মোঃ দেলোয়ার হোসেন সুজন বক্তব্য রাখেন। এসময় মজলিশপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ বাদল মিয়া ও প্রবাসী অভিভাবক মোঃ জামাল মিয়া তাদের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
​ওকাপ-এর প্রজেক্ট অফিসার রথিন্দ্র কোচ, ফিল্ড অর্গানাইজার শান্ত আহম্মেদ ও মোসাঃ সীমা আক্তারের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে মজলিশপুর, নাটাই দক্ষিণ, রামরাইল, মাছিহাতা ও সুলতানপুর ইউনিয়নের বিদেশফেরত কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।