মোঃ সোহরাব হোসেন রতন, বাগেরহাট: গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, গার্মেন্টসের বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে, গাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প সরকার কোন অবস্থায় ধ্বসং হতে দেবেনা। এই শিল্পে রাখ-রাখ ভাই-বোন ও মায়েরা কাজ করছে, এই শিল্প তাদের কর্মস্থান হয়েছে। তাই কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না, বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারেনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
পথসভায় আরো বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, তা সরকার জানে। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন।
প্রধানমন্ত্র আরও বলেন, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ওদেও বিরুদ্ধে আমাদেও রুখে দাড়াতে হবে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদেও প্রশাসক ও জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, , বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ ম-লসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিরেন।
মোংলা বন্দরে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী :
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং অন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বন্দরের আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় নির্মাণ করা হবে দুটি আধুনিক জেটি, লোডেট কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীন সড়ক, প্রশাসনিক ভবন, কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন নির্মাণ ও ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে, বছরে তা চার লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতায় পৌঁছাবে। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে গত ১০ অক্টোবর প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাকি টাকার যোগান দেবে সরকার। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ২৫ মার্চ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষেও চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চীনের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন
হযরত খানজাহান (রহ) মাজার শরীফ জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরে বাগেরহাট শহরতীতে হযরত খানজাহান (রহ) মাজার শরীফ জিয়ারত করেন। এসময়ে তিনি মাজার শরীফৈ ফাতেহা পাঠ করে দেশ ও জাতির উন্নতি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকল ভেঙ্গে হাত মেলান এবং কুশল বিনিময় করেন। মোংলা থেকে বাগেরহাট আসা ও খুলনা যাবার পথেও মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদেও শুভেচ্ছা জবাব দেন।
বাগেরহাট
০৫.১১.২০২৬







