চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুই দিনব্যাপী একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি)।
শিশুদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধ বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাব, শিশু অধিকার, বাংলাদেশের বিরল পাখি ও ঔষধি উদ্ভিদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
প্রতিদিন সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় কথা বলার দক্ষতা উন্নয়ন সেশন, পোস্টার প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আকর্ষণীয় গল্প বলার আসর। পোস্টার প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন পাখি এবং ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। অন্যদিকে, মজার কুইজ ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিটি কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আয়োজকদের মতে, বাল্যবিবাহ ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতির পথে অন্যতম বড় বাধা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে পাখি ও ঔষধি উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়ছে। এসব সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আইডব্লিউবি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আনন্দদায়ক ও সৃজনশীল উপায়ে বাল্যবিবাহের কুফল, শিশু অধিকার সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করে। পাশাপাশি গল্প বলা ও কথা বলার দক্ষতা উন্নয়ন সেশনের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, মতপ্রকাশের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। অন্যায়, বৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান গ্রহণেও এসব কার্যক্রম শিশুদের উৎসাহিত করে।
উপস্থিত শিক্ষকমণ্ডলী ও আইডব্লিউবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষামূলক উদ্যোগ শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের বাইরে বাস্তব জীবন ও সমাজ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে না, বরং দায়িত্বশীল, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।







