, ,

শিক্ষার্থী মেহেদী হত্যার চার মাস, বিচার নিয়ে শঙ্কায় পরিবার

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আমি আর বিচার পাব না’—নিহত শিক্ষার্থীর বাবার আক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি প্রেসক্লাব সভাপতির

ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে থানার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা-মা ও এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি ছিল, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সময় গড়িয়ে চার মাস পার হওয়ার পরও মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা জিয়াউদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এতে বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাঁর মনে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় এই অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রভাত বার্তার সঙ্গে আলাপকালে জিয়াউদ্দিন বলেন, “এখনো পর্যন্ত পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিদের গ্রেপ্তারের কোনো তৎপরতা নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমি আর বিচার পাব না।”

সন্তান হারানোর শোকের পাশাপাশি বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে হতাশ করে তুলেছে। পরিবারের দাবি, মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের জানানো হোক এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা হোক।

গত ১৬ জুন ২০২৬ ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুঠোফোন চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বাবা জিয়াউদ্দিন ১৮ জুন রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানার সামনে বিক্ষোভ করে বিচারের দাবি জানান। পরবর্তী সময়ে মামলার আসামি গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হলেও তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারের বক্তব্যে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন মামলার বিষয়টি তদন্ত চলমান তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের তিনি বলেন একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার যেন কোনোভাবেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। মামলার তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।

মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানান প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতি, কিভাবে নিশ্চিত করছেন তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল গোলাম কিবরিয়া বলেন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি, এবং হোস্টেল গুলোতে নিয়মিত শিক্ষকদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধানে ব্যবস্থা করেছি।

মেহেদী আর ফিরে আসবে না, কিন্তু তার মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে পরিবার। বাবার আক্ষেপ—শেষ পর্যন্ত কি তিনি ছেলের মৃত্যুর বিচার পাবেন?